কোলনস্কোপি কি, কেন, কখন এবং কিভাবে করা হয়?

কোলনস্কোপি কি, কেন, কখন এবং কিভাবে করা হয়?

কোলনস্কোপি কি?

কোলনস্কপি হচ্ছে কোলন বা বৃহদন্ত্রের একটি পরীক্ষা। যে পরীক্ষার মাধ্যমে বৃহদান্ত্র, মলদ্বার বা পায়ুপথের বিভিন্ন সমস্যা নির্ণয় করা যায়। এই পরীক্ষাতে একটি চিকন স্কোপ বা নল মলদার দিয়ে ঢুকানো হয়। এই স্কোপের সাথে যুক্ত কম্পিউটারে নাড়ীর ভিতরের রোগসমূহ ছবিসহ রিপোর্ট করা হয়।

কোলনস্কোপি কখন করা হয়?

রোগী যখন পায়খানার রাস্তায় কোনো সমস্যায় ভোগেন যেমন: পায়খানার সাথে রক্ত যাওয়া; মলদ্বারে ব্যথা/ ফোলা; ঘন ঘন পায়খানা হওয়া (দুই সপ্তাহের বেশী সময় ধরে); কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া (দুই সপ্তাহের বেশী সময় ধরে); পায়খানা ক্লিয়ার না হওয়া; বিজল বিজল পায়খানা হওয়া বা পায়খানার সাথে আম বা মিউকাস যাওয়া; বয়স পঞ্চাশের বেশি হলে স্ক্রিনিং এর উদ্দেশ্যে- অর্থাৎ পলিপ বা ক্যান্সার আছে কিনা বুঝার জন্য; যাদের নিকটাত্মীয়ের মধ্যে কোলন ক্যান্সারের ইতিহাস আছে; এ ছাড়া, আলসারেটিভ কোলাইটিস এবং ক্রনস ডিজিজে রোগ নির্ণয়, রোগের উন্নতি বা ফলোআপের জন্য; ক্যান্সারের রোগীর পরবর্তী ফলোআপের জন্য।

কোলনস্কপির প্রস্তুতি-

কোলনস্কপির প্রস্তুতি বলতে পেটের সব মল পরিষ্কার করাকে বুঝায়। প্রস্তুতি ভালো না হলে মলের নীচে পলিপ, আলসার (ঘা) বা অন্যান্য রোগের নমুনা ঢাকা পড়ে রোগ নির্নয়ে ব্যার্থ হতে পারে। পরীক্ষার আগের দিন আঁশ জাতীয় খাবার যেমনঃ শাক, শসা ও ফল খাওয়া যাবেনা। পরীক্ষার আগের রাতে খাবার পর তিনটা জোলাপের বড়ি একসাথে খাওয়া লাগে। পরীক্ষার দিন ভোরে হালকা নাস্তা যেমনঃ ভাত, রুটি, ডিম, দুধ, কলা, বিস্কুট, চা ইত্যাদি খেতে পারে। পরীক্ষার দিন সকালে তরল ঔষধ (আপনার ডাক্তার বা হাসপাতাল থেকে যেটা বলবে) খেতে হয় তারপর খাবার স্যালাইন খেলে ভালো হয় (ডায়াবেটিস ও প্রেসার ও কিডনী রোগী বাদে)। এরপর আর কোন খাবার খাওয়া যাবে না।

কখন বুঝবেন প্রস্তুতি ঠিক মত হয়েছে?

ঔষধ খাওয়ার পর আট থেকে দশবার পাতলা পায়খানা হবে। পায়খানা হতে হতে যখন শেষ পর্যন্ত পানির মতো পরিস্কার মল যাবে তখন বুঝতে হবে প্রস্তুতি সঠিক হয়েছে। প্রয়োজনে এ সময় রোগী ঘন ঘন খাবার স্যালাইন খাবে। তবে বয়স্ক রোগী, ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। আর এ সময় শক্ত কোন ধরনের খাবার সম্পূর্ণ রূপে নিষেধ থাকবে।

রোগীদের পরীক্ষা ভীতি বা শঙ্কা-

এটা প্রায় সব রোগীদের একটি সাধারন সমস্যা। প্রায় সব রোগীই এ পরীক্ষার কথা শুনলে ভয় পান। আধুনিক যুগে ভয় পাওয়ার কোনোই কারণ নেই। ভালো সেন্টারগুলোতে এ পরীক্ষা করার সময় রোগীকে হালকা  ঘুম পাড়ানো হয়, যাতে রোগী কোন ব্যথা না পায়। পরীক্ষা করার পর রোগী যখন সজাগ হন তখন তিনি বুঝতেই পারেন না যে, কোন ফাকে পরীক্ষা করা হয়ে গেছে। এক থেকে দেড় হাজার কোলনস্কোপিতে একটা জটিলতা হতে পারে; তবে তারও নিরাপদ সমাধান আছে। তাই ভয় না পেয়ে যাদের প্রয়োজন তাদের উচিৎ সঠিক সময়ে পরীক্ষাটি করে নেয়া।

কোলনস্কোপি করিয়ে লাভ কি?

সঠিক রোগ দ্রুত ধরা পড়ায় নির্ভুল ভাবে ও দ্রুততার সাথে সঠিক চিকিৎসা দেয়া যায়। কোলন বা রেক্টামে পলিপ পাওয়া গেলে তা অপসারণের মাধ্যমে ক্যান্সারের হাত থেকে বাচা যায়। ক্যান্সার থাকলে তা দ্রুত ধরা পড়ায় সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করা সম্ভব হয়। মোট কথায় ঝুকির চেয়ে লাভের পরিমান অনেক বেশী। 

Leave a Comment