রেক্টাল/ রেক্টাম/ মলাশয় ক্যান্সার কি?

রেক্টাল/ রেক্টাম/ মলাশয় ক্যান্সার কি?

মলাশয় হচ্ছে মলদারের ভিতরের অংশ। এটির দৈর্ঘ মলদার থেকে ১৫ সেন্টিমিটার বা ৬ ইঞ্চি। এখানে মলত্যাগের আগ পর্যন্ত মল জমা থাকে। ক্যান্সার হচ্ছে একটি খারাপ ধরণের টিউমার, যা শরীরে ছড়িয়ে পড়লে মানুষ মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয়। মলাশয়ের ক্যান্সার সাধারণত পলিপ বা ছোট একটি গোটা থেকে হয়ে থাকে। তবে সকল পলিপই ক্যান্সারে পরিণত হয়না। সুস্থ অবস্থা থেকে পলিপ হয়ে ক্যান্সার হতে ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

রেক্টাল/ রেক্টাম/ মলাশয় ক্যান্সারের লক্ষণ কি?

·   মলের সাথে রক্ত যাওয়াঃ এই রক্ত লাল বা কালচে উভয় প্রকারেরই হতে পারে।

·   মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তনঃ নিম্ন লিখিত পরিবর্তনগুলোর  যেকোন একটি দুই সপ্তাহের বেশী সময় ধরে থাকলে রেক্টাল/ রেক্টাম/ মলাশয় ক্যান্সার থাকতে পারে বলে সন্দেহ করতে হবে।

o   ডায়রিয়া/ আমাশয়

o   কোষ্ঠকাঠিন্য

o   পায়খানা ক্লিয়ার না হওয়া অর্থাৎ মল ত্যাগের পরে লাগে যেন আরো মল ভিতরে রয়ে গেছে।

o   আগের চেয়ে বেশী বা কমবার পায়খানা হওয়া।

o   সকালে কয়েকবার পায়খানা হওয়া বা পায়খানার বেগ আসা।

o   মলের আকৃতিতে পরিবর্তন যেমন মল চ্যাপ্টা হওয়া।

·       পেটে ব্যাথা হওয়া বা মোচড় দেওয়া বা অতিরিক্ত গ্যাস হওয়া

·       ডায়েটিং না করে সত্বেও শরীরের ওজন কমে যাওয়া (এটি সাধারণত শেষ পর্যায়ে হয়ে থাকে)

রেক্টাল/ রেক্টাম/ মলাশয় ক্যান্সারের স্ক্রিনিং কি?

এই ক্যান্সারে প্রাথমিক অবস্থায় কোন লক্ষণ নাও হতে পারে। বয়স ৪০ বছর বা তার বেশী হয়ে গেলে যেহেতু এই ক্যান্সারের ঝুকি বাড়ে তাই এই বয়স থেকে স্ক্রিনিং করা উচিত। স্ক্রিনিং অর্থ হলো কোন লক্ষণ হওয়ার আগেই নিয়মিত চেকআপ করা। রেক্টাল/ রেক্টাম/ মলাশয় ক্যান্সার স্ক্রিনিং এর জন্য ১০ বছর পরপর ফুল কলোনস্কপি এবং মধ্যবর্তী প্রতি বছর মলের অকাল্ট ব্লাড টেস্ট করা উচিত। কখনো অকাল্ট ব্লাড টেস্ট পজিটিভ অর্থাৎ খারাপ হলে কয়েক দিনের মধ্যেই ফুল কলোনস্কপি করতে হবে এবং তারপর থেকে আবারো ১০ বছর পরপর এভাবে ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত চালাতে হবে। এভাবে পরীক্ষা করে পলিপ ধরা পড়লে পলিপেকটমি বা পলিপ কেটে ফেলার অপারেশন করলে মলাশয় ক্যান্সার থেকে চিরতরে দূরে থাকা যায়। উন্নত দেশে ৪৫ বা ৫০ বছর থেকে স্ক্রিনিং করা হলেও যেহেতু তাদের তুলনায় আমাদের দেশে গড়ে ১০ বছর আগে ক্যান্সার দেখা যায়; তাই আমাদের পরামর্শ ৪০ বছর থেকে শুরু করা। তবে কারো বংশে ক্যান্সার থাকলে সেই বংশের সবচেয়ে কম যে বয়সে ক্যান্সার ধরা পড়েছে অন্যদেরকে তার আরো ৫ বছর আগে থেকে স্ক্রিনিং শুরু করা উচিত।

রেক্টাল/ রেক্টাম/ মলাশয় ক্যান্সার নির্ণয়ঃ

·       রোগ ইতিহাস

·       শারিরিক পরীক্ষা

·       কলোনস্কপিঃ পলিপ ও ক্যান্সারের উপস্থিতি বুঝা এবং কোলন ও রেক্টামের কোন কোন জায়গায় ক্যান্সার আছে তা বের করা।

·       বায়োপসি বা মাংস পরীক্ষাঃ ক্যান্সার আছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া এবং ক্যান্সার কোন জাতের তা বের করা (find out whether adenocarcinoma/ other cancer. Also find the grade of the cancer)

·       ইমিউনোহিস্টোকেমিস্ট্রিঃ ক্যান্সারের উৎপত্তি সম্পর্কে আরো ভালোভাবে জানা।

ক্যান্সারের স্টেজ নির্ণয় বা ক্যান্সার কতদূর ছড়িয়েছে তা বের করাঃ

·   স্টেজ বের করার জন্য শারিরিক পরীক্ষা, তলপেটের এমআরআই, সারা পেটের সিটি স্ক্যান এবং টিঊমার মার্কার যেমন CEA ও CA 19-9 পরীক্ষা করা হয়।

·   স্টেজ ১ঃ প্রাথমিক অবস্থা এদের অবস্থা আরো ভালোভাবে বুঝার জন্য এন্ডো-রেক্টাল আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা যেতে পারে।

·       স্টেজ ২ ও ৩ঃ স্থানীয়ভাবে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়া

·       স্টেজ  ৪ঃ শরীরে দূরবর্তী স্থানে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়া।

চিকিৎসাঃ

মলাশয়ের সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা পদ্ধতি বের করার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় সকল বিশেষজ্ঞ সমন্বয়ে একটি বোর্ড গঠন করি। রোগের ও রুগীর অবস্থা ভেদে অপারেশন, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, টারগেটেড থেরাপি ও ইমিউনোথেরাপী লাগতে পারে। মলাশয় ক্যান্সারের অপারেশনের ফলাফল বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে যেমনঃ

·   কমপক্ষে ১২ টি লিম্ফ নোড ফেলা হয়েছে কিনা

·   রেক্টামের কতখানি রাখা হয়েছে

·   নার্ভ কাটা পড়েছে কিনা

·   সার্জনের ট্রেনিং

·   সার্জনের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা

·   থেরাপি অপারেশনের আগে নাকি পরে দেওয়া হয়েছে তার উপর।

আমরা জানি ও বুঝি আপনার ভালোভাবে জীবন যাপনের গুরুত্ত কতখানি। আমরা রেক্টাল/ রেক্টাম/ মলাশয় ক্যান্সারের চিকিৎসা করার সময় সচেষ্ট থাকি যাতে আপনার মলাশয়ের কার্যকারিতা ও যৌন জীবন অক্ষুন্ন থাকে এবং আপনি সুখি জীবন যাপন করতে পারেন।  

লেখক পরিচিতিঃ

ডা. তারিক আখতার খান

এমবিবিএস, এফসিপিএস (সার্জারি), এমএস (কলোরেক্টাল সার্জারি), এফআরসিএস (গ্লাসগো)।

সহযোগী অধ্যাপক, কলোরেক্টাল সার্জারি, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ।

সদস্য, আমেরিকান সোসাইটি অফ কোলন এন্ড রেক্টাল সার্জারি।

আজীবন সদস্য, ইন্ডিয়ান সোসাইটি অফ কোলন এন্ড রেক্টাল সার্জারি।

ফেলো ও আজীবন সদস্য, আন্তর্জাতিক কলোপ্রক্টোলজি সোসাইটি।

সিনিয়র কনসালটেন্ট, কলোরেক্টাল ও এন্ডো-লেপারোস্কপিক সার্জারি, ল্যাব এইড ক্যান্সার হাসপাতাল।

এপয়েন্টমেন্টের জন্য যোগাযোগ করুনঃ ০১৯৮৫৮৬০৬৯০, ০১৭৩৬৩৬৯৫৩৬

ডা. তারিক আখতার খান ২০০০ সালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ও ২০১০ সালে সার্জারীতে এফসিপিএস  ডিগ্রী অর্জন করেন। আবাসিক সার্জন হিসেবে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, কুষ্টিয়াতে ২০১০-২০১৩ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। ২০১৩ সালে তিনি কনসালটেন্ট (সার্জারী) হন। ২০১৪ সাল থেকে বিএসএমএমইউ সহ ঢাকা ও ঝিনাইদহে কলোরেক্টাল সার্জন হিসেবে কাজ করেন। তিনি কলোরেক্টাল ক্যান্সারের উপর থিসিস করেছেন। ২০১৮ সালে কলোরেক্টাল সার্জারীতে এম এস ডিগ্রী অর্জন করে বর্তমানে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে কর্মরত আছেন।

কলোরেক্টাল সার্জারী বিষয়ক তাঁর গবেষণালব্ধ ৯টি প্রবন্ধ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৭ সালে কলোরেক্টাল বিষয়ক তার গবেষনা প্রবন্ধ ইন্ডিয়াতে পুরস্কার অর্জন করে।

বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা সমূহঃ

পাইলস, কোলন ক্যান্সার, রেক্টাম/মলাশয় ক্যান্সার, পলিপ, এনাল/মলদারের ক্যান্সার, ফিস্টুলা, ফোঁড়া, এনাল ফিসার, রেক্টাল প্রোলাপ্স(হালিশ), কোষ্ঠকাঠিন্য, মলত্যাগে বাধাগ্রস্ততা(ODS), ডায়রিয়া, আমাশয়, পেটে ব্যাথা, আইবিএস, আলসারিটিভ কোলাইটিস, ক্রনস ডিসিস, পেটের ও মলদারের যক্ষা, বমি, পেট ফাঁপা, পেট ফোলা, বদ হজম, পেটে গ্যাস, মলদারে রক্ত যাওয়া, মলদারে ব্যাথা,পাইলোনিডাল সাইনাস ইত্যাদির চিকিৎসা।

বিনা অপারেশনে পাইলসের চিকিৎসা, লেজার চিকিৎসা, কলোনস্কপি, রাবার ব্যান্ড/রিং লাইগেশন, ইঞ্জেকশন স্কেরোথেরাপি, লঙ্গো, STARR, ফিস্টুলা সার্জারী, ল্যাপারোস্কপিক রেক্টোপেক্সি, এবডোমিনোপেরিনিয়াল রিসেকশন, এন্টেরিয়র রিসেকশন, কোলেকটমি ইত্যাদি সেবা।

Dr. porichiti

Subscrib To Our Newsletter

Thank you! Your submission has been received!
Oops! Something went wrong while submitting the form.

Don't miss these stories