পাইলস (Hemorrhoids) বাংলাদেশের একটি খুব সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা, যা
কোষ্ঠকাঠিন্য, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, পর্যাপ্ত আঁশ ও পানি না খাওয়া এবং
জোর দিয়ে মলত্যাগ করার অভ্যাসের কারণে ধীরে ধীরে তৈরি হয়। এসব কারণে
মলদ্বারের শিরাগুলো ফুলে যায়, যার ফলে ফোলা, ব্যথা, জ্বালা ও অস্বস্তি
দেখা দেয়। শুরুতে সমস্যাটি হালকা মনে হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি
বাড়তে পারে এবং দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করে।
বাংলাদেশে অনেকেই লজ্জা বা ভুল ধারণার কারণে
পাইলসের চিকিৎসা নিতে দেরি
করেন, ফলে সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়। এই গাইডটি ওয়েবসাইটের জন্য উপযোগী
করে সাজানো হয়েছে, যাতে সহজ ভাষায়
পাইলসের ফোলা কমানোর বাস্তব উপায়, জীবনযাত্রার
করণীয় এবং চিকিৎসা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক জায়গায় পাওয়া
যায়। এটি পাঠকদের সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিতে
সহায়তা করবে।
পাইলসের ফোলা মূলত মলদ্বার ও রেকটাল অংশের শিরায় অতিরিক্ত চাপ পড়ার
কারণে হয়। দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য, শক্ত মল ও জোর দিয়ে মলত্যাগ করলে
এই শিরাগুলো ফুলে ওঠে। সময়মতো কারণ শনাক্ত না করলে ফোলা ও অস্বস্তি
ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।
দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য
শক্ত মল ও জোর করে মলত্যাগ
দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা (অফিস/ড্রাইভিং)
আঁশ কম, ঝাল-মসলাযুক্ত খাবার বেশি
গর্ভাবস্থা ও ওজন বৃদ্ধি
পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া
ঘরোয়া ও দৈনন্দিন যত্নে
পাইলসের ফোলা কমানোর উপায়
পাইলসের ফোলা কমাতে সব সময় ওষুধ বা চিকিৎসাই প্রথম ধাপ নয়। দৈনন্দিন
কিছু সহজ অভ্যাস ও ঘরোয়া যত্ন ঠিকভাবে মেনে চললে ফোলা, ব্যথা ও
অস্বস্তি অনেকটাই কমানো যায়। এই পদ্ধতিগুলো নিরাপদ, সহজ এবং
বাংলাদেশের বাস্তব জীবনের সঙ্গে মানানসই।
১) কুসুম গরম পানিতে বসা
দিনে ২–৩ বার ১০–১৫ মিনিট কুসুম গরম পানিতে বসলে রক্তসঞ্চালন
ভালো হয়, শিরার টান কমে এবং ফোলাভাব হ্রাস পায়।
২) ঠান্ডা সেঁক
বাহ্যিক পাইলসে পরিষ্কার কাপড়ে জড়ানো বরফ ৫–১০ মিনিট ধরে সেঁক
দিলে ব্যথা ও ফোলা দ্রুত কমে। সরাসরি বরফ লাগাবেন না।
৩) পর্যাপ্ত পানি পান
প্রতিদিন ২.৫–৩ লিটার পানি পান করলে মল নরম থাকে, চাপ কমে এবং
ফোলার ঝুঁকি হ্রাস পায়।
৪) আঁশযুক্ত খাবার বাড়ান
আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে।
ফল: কলা, পেঁপে, নাশপাতি
শাকসবজি: লাল শাক, পুঁই শাক, ঢেঁড়স
শস্য: লাল চাল/আটা, ওটস
প্রয়োজনে ইসবগুল (ডাক্তারের পরামর্শে)
৫) টয়লেট অভ্যাস ঠিক করুন
মল না এলে জোর করবেন না। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা এড়িয়ে চলুন।
পাইলসের ফোলা ও অস্বস্তি শুধু ওষুধে নয়, দৈনন্দিন জীবনযাত্রার কিছু
পরিবর্তনের মাধ্যমেও দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। নিয়মিত
অভ্যাস, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং চলাফেরার সামান্য পরিবর্তন শিরার ওপর চাপ
কমায় ও সমস্যাটি বারবার ফিরে আসার ঝুঁকি হ্রাস করে।
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা
৪৫–৬০ মিনিট পরপর বসা থেকে উঠে নড়াচড়া
অতিরিক্ত ঝাল, ভাজা ও প্রসেসড খাবার কমানো
ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়ানো
মলত্যাগের সময় পা সামান্য উঁচুতে রেখে চাপ কমানো
ওষুধ ও চিকিৎসাভিত্তিক সমাধান
ঘরোয়া যত্ন ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনে উপকার না হলে, পাইলসের ফোলা কমাতে
ওষুধ ও চিকিৎসাভিত্তিক সমাধান প্রয়োজন হয়। রোগের ধরন ও তীব্রতার ওপর
ভিত্তি করে চিকিৎসক নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি নির্বাচন করেন।
সঠিক চিকিৎসা নিলে ব্যথা, ফোলা ও জটিলতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।
ঘরোয়া যত্নে পর্যাপ্ত উপকার না পেলে চিকিৎসকের পরামর্শে—
টপিক্যাল অয়েন্টমেন্ট/সাপোজিটরি (ফোলা ও ব্যথা কমাতে)
স্টুল সফটেনার (মল নরম রাখতে)
প্রয়োজনে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ
নোট: দীর্ঘদিনের বা তীব্র সমস্যায় আধুনিক নন-সার্জিকাল পদ্ধতি
(যেমন
রাবার ব্যান্ড লিগেশন) বা প্রয়োজন অনুযায়ী সার্জারি বিবেচনা করা হয়। কোন পদ্ধতি উপযুক্ত
হবে, তা রোগীর অবস্থার ওপর নির্ভর করে।
কখন অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যাবেন?
পাইলসের ফোলা অনেক সময় ঘরোয়া যত্ন ও অভ্যাস পরিবর্তনে কমে যায়। তবে
কিছু উপসর্গ এমন থাকে, যেগুলো অবহেলা করা ঠিক নয়। এই লক্ষণগুলো দেখা
দিলে দেরি না করে অবশ্যই অভিজ্ঞ ডাক্তারের কাছে যাওয়া জরুরি।
২–৩ সপ্তাহেও ফোলা ও ব্যথা না কমলে
নিয়মিত রক্তপাত হলে
তীব্র ব্যথা, জ্বর বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে
মলত্যাগে সমস্যা বাড়তে থাকলে
পাইলসের চিকিৎসায় প্রচলিত যে ভুল ধারণাগুলো এড়ানো জরুরি
পাইলসের চিকিৎসা নিয়ে সমাজে নানা ভুল ধারণা প্রচলিত আছে, যা অনেক সময়
রোগকে আরও জটিল করে তোলে। নিজের ইচ্ছায় ওষুধ খাওয়া, চিকিৎসা এড়িয়ে
চলা বা সমস্যাকে তুচ্ছ ভাবার কারণে সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু হয় না।
তাই পাইলসের ক্ষেত্রে কোন ধারণাগুলো ভুল এবং কেন সেগুলো এড়ানো
জরুরি—তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন:
“আপনা-আপনি সেরে যাবে”—সব ক্ষেত্রে সত্য নয়
নিজের ইচ্ছায় অতিরিক্ত হারবাল বা অজানা ওষুধ সেবন
লজ্জার কারণে চিকিৎসা দেরি করা
এক্সপার্ট পাইলস ডক্টরের পরামর্শ নিন | ডা. তারিক আখতার খান
পাইলসের ফোলা ও জটিল সমস্যায় সঠিক মূল্যায়ন ও আধুনিক চিকিৎসা অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে
অভিজ্ঞ কোলোরেক্টাল সার্জনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা
নিলে নিরাপদ ও কার্যকর ফল পাওয়া যায়। বাংলাদেশে পাইলসসহ মলদ্বার ও
কোলোরেক্টাল সমস্যার আধুনিক চিকিৎসায় সুপরিচিত বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক
ডা. তারিক আখতার খান—রোগীর অবস্থা অনুযায়ী
ধাপে ধাপে চিকিৎসা পরিকল্পনা দিয়ে থাকেন।
হালকা থেকে মাঝারি পাইলসের ক্ষেত্রে নিয়মিত সিটজ বাথ, পর্যাপ্ত
পানি পান, আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া এবং কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ন্ত্রণের
মাধ্যমে ফোলা অনেকটাই কমানো যায়। তবে উপসর্গ দীর্ঘদিন থাকলে
চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।
সঠিক যত্ন ও অভ্যাস মেনে চললে ১–২ সপ্তাহের মধ্যে ফোলাভাব কমতে
শুরু করে। কিন্তু কারণ ঠিক না হলে বা চাপ দেওয়ার অভ্যাস চলতে
থাকলে সময় বেশি লাগতে পারে।
কুসুম গরম পানিতে বসা, ঠান্ডা সেঁক এবং চিকিৎসকের পরামর্শে
নির্দিষ্ট অয়েন্টমেন্ট ব্যবহার করলে ব্যথা ও ফোলা দুটোই কমে।
নিজের ইচ্ছায় ব্যথানাশক খাওয়া উচিত নয়।
হ্যাঁ, কোষ্ঠকাঠিন্য, ভুল খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার অভ্যাস ঠিক
না করলে পাইলসের ফোলা আবার হতে পারে। তাই চিকিৎসার পাশাপাশি
দৈনন্দিন অভ্যাস পরিবর্তন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
যদি ফোলা ও ব্যথা ২–৩ সপ্তাহেও না কমে, নিয়মিত রক্তপাত হয়, বা
তীব্র ব্যথা ও সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দেয়—তাহলে দেরি না করে
দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
পাইলসের আধুনিক ও নিরাপদ চিকিৎসা নিন আজই
সঠিক সময়ে অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ও আধুনিক চিকিৎসা নিলে পাইলসের
ফোলা, ব্যথা ও অস্বস্তি নিরাপদভাবে কমানো সম্ভব।
Discover comprehensive and effective colon and rectal polyp treatment in Bangladesh with Prof. Dr. Tariq Akhtar Khan. Get advanced care and personalized treatment now!