মলদ্বারে রক্তপাত: কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়া—এই একটি উপসর্গই মানুষের মনে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। কারও মধ্যে ভয় জাগায়, কারও মধ্যে অস্বস্তি বা দ্বিধা, কেউ লজ্জায় চুপ করে থাকেন, আবার কেউ ভাবেন, “আগেও একবার হয়েছিল, এমনিই সেরে যাবে।” কিন্তু শরীর যখন রক্তের মাধ্যমে কোনো সংকেত দেয়, তখন সেটিকে উপেক্ষা করার সুযোগ খুব কমই থাকে।

মলদ্বারের রক্তপাত নিজে কোনো রোগ নয়। এটি শরীরের ভেতরে চলমান কোনো সমস্যার প্রকাশমাত্র। সমস্যা ছোটও হতে পারে, আবার জটিলও হতে পারে। আসল বিষয় হলো—সময়মতো কারণটি বোঝা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।

বেশ কিছু কোলোরেক্টাল রোগ, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, কম পানি পান, দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য, টয়লেটে অতিরিক্ত চাপ—সব মিলিয়ে মলদ্বার ও অন্ত্রের রোগ এখানে খুব পরিচিত বিষয়। তাই মলদ্বারে রক্তপাত সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।

মলদ্বারে রক্তপাত: কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়া আসলে কী?

সহজ ভাষায় বলতে গেলে, মলদ্বার বা পায়ুপথ দিয়ে দৃশ্যমান রক্ত বের হওয়াকেই রেকটাল ব্লিডিং বলা হয়। এই রক্ত কখনো মলের সঙ্গে মিশে থাকে, আবার কখনো মলত্যাগের শেষে আলাদা করে দেখা যায়। অনেক সময় টয়লেট টিস্যু বা পানিতে রক্তের দাগ চোখে পড়ে।

এখানে একটি ভুল ধারণা প্রায়ই দেখা যায়—অনেকে ভাবেন, রক্ত মানেই বড় কোনো রোগ। আবার অনেকে উল্টোটা ভাবেন—এটা খুব সাধারণ ব্যাপার। বাস্তবতা হলো, মলদ্বারে রক্তপাত একটি উপসর্গ, যার গুরুত্ব নির্ভর করে এর কারণ, পরিমাণ, স্থায়িত্ব এবং রোগীর বয়স ও শারীরিক অবস্থার ওপর।

মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়া আসলে কী?

মলদ্বারে রক্তপাতের সাধারণ কারণ সমূহ

মলদ্বারে রক্তপাতের সাধারণ কারণগুলো বেশিরভাগ সময়ই মলদ্বার ও তার আশপাশের সমস্যার সঙ্গে জড়িত। এসব কারণ অনেক ক্ষেত্রে গুরুতর নয়, তবে সঠিকভাবে শনাক্ত না হলে সমস্যা ধীরে ধীরে জটিল আকার নিতে পারে।

১.

পাইলস (Hemorrhoids)

পাইলস হলো মলদ্বারের ভেতরের বা বাইরের শিরাগুলোর অস্বাভাবিক ফোলা অবস্থা। বাংলাদেশে এটি মলদ্বারে রক্তপাতের সবচেয়ে পরিচিত কারণ। পাইলস হলে অনেক সময় ব্যথা ছাড়াই উজ্জ্বল লাল রক্ত দেখা যায়। দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য, টয়লেটে অতিরিক্ত চাপ এবং অনিয়মিত জীবনযাপনে পাইলসের ঝুঁকি বাড়ায়।

২.

এনাল ফিশার

এনাল ফিশার হলো মলদ্বারের চামড়ায় হওয়া একটি গভীর ফাটা ক্ষত। এটি ছোট মনে হলেও ব্যথা অত্যন্ত তীব্র হতে পারে। মলত্যাগের সময় জ্বালাপোড়া ও ছিঁড়ে যাওয়ার মতো ব্যথা হয়, সঙ্গে সামান্য রক্তপাত দেখা যায়। শক্ত মল এবং দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্যই এর প্রধান কারণ।

৩.

দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য

কোষ্ঠকাঠিন্যকে অনেকেই হালকা সমস্যা মনে করেন। কিন্তু বাস্তবে এটি বহু রেকটাল সমস্যার মূল কারণ। শক্ত মল বারবার জোর করে বের করতে গেলে মলদ্বারের ভেতরের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে রক্তপাত হতে পারে।

৪.

মাঝারি ঝুঁকির কারণসমূহ

মাঝারি ঝুঁকির কারণসমূহ এমন কিছু সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত, যেগুলো ধীরে ধীরে মলদ্বারে রক্তপাতের কারণ হতে পারে। কোলোরেক্টাল পলিপ বা অন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগে রক্তপাত অনেক সময় হালকা হলেও দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

  • কোলোরেক্টাল পলিপ: পলিপ হলো অন্ত্রের ভেতরে গড়ে ওঠা ছোট মাংসপিণ্ডের মতো বৃদ্ধি। শুরুতে এগুলো সাধারণত কোনো উপসর্গ তৈরি করে না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এগুলো রক্তপাতের কারণ হতে পারে। কিছু পলিপ ভবিষ্যতে ক্যান্সারে রূপ নেওয়ার ঝুঁকিও রাখে, তাই এগুলো অবহেলা করা উচিত নয়।
  • ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ (IBD): আলসারেটিভ কোলাইটিস বা ক্রোনস ডিজিজের মতো রোগে অন্ত্রের ভেতরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ থাকে। এর ফলে মলের সঙ্গে রক্ত, শ্লেষ্মা, পেটব্যথা এবং কখনো ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এই রোগগুলো দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও নিয়মিত ফলো-আপের দাবি রাখে
৫.

গুরুতর ও উচ্চ ঝুঁকির কারণ

গুরুতর ও উচ্চ ঝুঁকির কারণ বলতে সেই সব অবস্থাকে বোঝায়, যেখানে মলদ্বারে রক্তপাতের কোনো গভীর ও জটিল সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। কোলোরেক্টাল ক্যান্সার, রেকটাল টিউমার বা দীর্ঘদিনের ব্যথাহীন রক্তপাত এই শ্রেণিতে পড়ে। এসব ক্ষেত্রে দেরি না করে দ্রুত পরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

  • কোলোরেক্টাল ক্যান্সার: অনেক ক্ষেত্রে কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণই হলো মলদ্বারে রক্তপাত। শুরুতে ব্যথা না থাকায় অনেকেই বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রোগটি জটিল আকার ধারণ করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এবং পারিবারিক ইতিহাস থাকলে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
  • কোলোরেক্টাল সার্জারির উন্নত প্রশিক্ষণে সক্রিয় ভূমিকা
  • ব্যথাহীন কিন্তু দীর্ঘদিনের রক্তপাত যদি কোনো ব্যথা ছাড়াই নিয়মিত রক্তপাত চলতে থাকে, তাহলে সেটিকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। এটি গভীর কোনো সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে, যা পরীক্ষা ছাড়া বোঝা সম্ভব নয়।
৬.

শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে পরামর্শদাতা

এগুলোর মাধ্যমে তিনি প্রতিদিনই বিভিন্ন ধরনের জটিল কেস পরিচালনা করেন।

  • ধানমন্ডি ডায়াগনস্টিক সেন্টার
  • ইমপালস হাসপাতাল
  • ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল
  • সুপার স্পেশালিটি সেন্টার

মলদ্বারে রক্তপাতের সঙ্গে যে লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে

রেকটাল ব্লিডিংয়ের ক্ষেত্রে শুধু রক্তপাতই একমাত্র লক্ষণ নয়। অনেক সময় শরীর আরও কিছু ইঙ্গিত দিয়ে থাকে, যা সমস্যার গভীরতা বোঝাতে সাহায্য করে। এই উপসর্গগুলো কখনো ধীরে ধীরে, কখনো একসঙ্গে প্রকাশ পায়। তাই রক্তপাতের পাশাপাশি শরীরের অন্য পরিবর্তনগুলোর প্রতিও মনোযোগ দেওয়া জরুরি।

  • মলত্যাগের সময় ব্যথা বা অস্বস্তি
  • মলের স্বাভাবিক রঙ ও গঠন পরিবর্তন
  • দীর্ঘদিন রক্তপাত হলে দুর্বলতা বা মাথা ঘোরা
  • মলত্যাগের পর অসম্পূর্ণ লাগা
  • কখনো অকারণ ওজন কমে যাওয়া বা ক্ষুধা কমে যাওয়া।

মলদ্বারে রক্তপাত কি সবসময় বিপদের লক্ষণ?

সব রেকটাল ব্লিডিং বিপজ্জনক নয় এই কথাটি যেমন সত্য, তেমনি এটিকে অবহেলা করাও ঠিক নয়। কঠিন মল বা সাময়িক কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে একবার হালকা রক্ত পড়তে পারে। এমন ক্ষেত্রে সমস্যা নিজে নিজে কমেও যেতে পারে।

কিন্তু যদি রক্তপাত বারবার হয়, কয়েক দিন ধরে চলতে থাকে, কিংবা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে দেখা দেয়—তাহলে সেটিকে আর সাধারণ বলা যায় না। বিশেষ করে ৪০ বছরের পর প্রথমবার মলদ্বারে রক্তপাত হলে, বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

মলদ্বারে রক্তপাত কি সবসময় বিপদের লক্ষণ

রক্তের রঙ কী ইঙ্গিত দেয়?

মলদ্বারে রক্তপাতের ক্ষেত্রে শুধু রক্ত পড়াই নয়, রক্তের রঙও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। রক্তের রঙ দেখে অনেক সময় বোঝা যায় সমস্যাটি মলদ্বারের কোন অংশে বা কতটা ভেতরে হচ্ছে। তাই রক্তের রঙ পরিবর্তন হলে সেটিকে হালকাভাবে না নিয়ে সতর্ক হওয়া জরুরি।

  • রক্তের রঙ অনেক সময় সমস্যার অবস্থান সম্পর্কে ধারণা দেয়।
  • উজ্জ্বল লাল রক্ত সাধারণত মলদ্বারের কাছাকাছি অংশ থেকে আসে।
  • গাঢ় লাল বা কালচে রক্ত হলে বোঝা যায় রক্তপাত অন্ত্রের উপরের অংশে হচ্ছে।
  • মলের সঙ্গে মিশে থাকা রক্ত সবসময়ই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

মলদ্বারে রক্তপাত কখন বিপজ্জনক হয়ে ওঠে?

কিছু পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। যেমন—

  • রক্তপাত দুই–তিন দিনের বেশি স্থায়ী হলে
  • বারবার রক্ত পড়লে
  • ৪০ বছরের বেশি বয়সে প্রথমবার রক্তপাত হলে
  • পরিবারে কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে
  • রক্তপাতের সঙ্গে জ্বর, দুর্বলতা বা ওজন কমে গেলে

মলদ্বারে রক্তপাত কীভাবে পরীক্ষা করা হয়?

সঠিক চিকিৎসার প্রথম ধাপ হলো সঠিক নির্ণয়। এজন্য রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস নেওয়া হয় এবং শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। প্রয়োজন হলে ডিজিটাল রেকটাল এক্সামিনেশন করা হয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রোক্টোস্কপি, সিগময়ডোস্কপি বা কোলোনোস্কপি করা হতে পারে। কোলোনোস্কপি বর্তমানে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা, কারণ এতে পুরো বৃহদান্ত্র সরাসরি দেখা সম্ভব হয়। সন্দেহজনক কোনো অংশ থাকলে বায়োপসি করা হয়।

বাংলাদেশে মলদ্বারে রক্তপাত চিকিৎসা

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি ও উন্নত যন্ত্রপাতির ব্যবহারের ফলে বাংলাদেশে রেকটাল ব্লিডিংয়ের চিকিৎসা অনেক বেশি কার্যকর ও নিরাপদ হয়েছে। চিকিৎসা সবসময় কারণভিত্তিক। গুরুতর রোগে সার্জারি ছাড়া বিকল্প থাকে না—এ ক্ষেত্রে সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

১.

ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা

হালকা বা প্রাথমিক পর্যায়ের সমস্যায় অনেক সময় ওষুধই যথেষ্ট উপকার দিতে পারে।

  • সংক্রমণ থাকলে ব্যথানাশক ও প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক
  • কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য ল্যাক্সেটিভ বা ফাইবার সাপ্লিমেন্ট
  • অর্শ বা পাইলসের জন্য উপযুক্ত ওষুধ ও মলম
  • আইবিডি (IBD) রোগীদের জন্য প্রদাহ-বিরোধী ওষুধ
২.

নন-সার্জিকাল চিকিৎসা

যেসব ক্ষেত্রে সরাসরি অপারেশনের প্রয়োজন হয় না, সেখানে এই পদ্ধতিগুলো কার্যকর বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

  • অর্শের জন্য রাবার ব্যান্ড লাইগেশন
  • স্ক্লেরোথেরাপির মাধ্যমে রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ
  • ফিসারের জন্য সিটজ বাথ, মলম ব্যবহার
  • খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন
৩.

সহজ ও আধুনিক সার্জারি পদ্ধতি (Minimally invasive surgery)

বর্তমানে শহরাঞ্চলের অনেক আধুনিক হাসপাতালে সহজ ও আধুনিক সার্জারি (Minimally invasive surgery) চিকিৎসা পদ্ধতি সহজলভ্য হচ্ছে।

  • পাইলস, ফিসার ও রেকটাল প্রোল্যাপসের জন্য লেজার সার্জারি
  • নির্বাচিত ক্ষেত্রে ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি
  • তুলনামূলক কম ব্যথা ও রক্তপাত
  • দ্রুত আরোগ্য লাভ এবং স্বাভাবিক জীবনে ফেরা
৪.

বড় ধরনের অস্ত্রোপচার

কিছু গুরুতর অবস্থায় অস্ত্রোপচার ছাড়া বিকল্প থাকে না।

  • কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার
  • অ্যাডভান্সড রেকটাল প্রোল্যাপস
  • দীর্ঘদিনের জটিল বা অবহেলিত সমস্যা
  • অভিজ্ঞ কোলোরেক্টাল বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা

বাংলাদেশে মলদ্বারে রক্তপাতের চিকিৎসা খরচ

বাংলাদেশে রেকটাল রক্তপাতের চিকিৎসা খরচ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে, যেমন হাসপাতালের ধরন, পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা এবং চিকিৎসার ধরণ। খরচ রোগীর অবস্থা অনুযায়ী কম বা বেশি হতে পারে।

  • বেসরকারি হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রাথমিক পরামর্শ ও পরীক্ষা (কোলনোস্কোপি বা সিগময়েডোস্কোপি): প্রায় ৩,০০০ টাকা – ১০,০০০ টাকা
  • ওষুধ, ছোটখাটো পদ্ধতি বা অস্ত্রোপচার (পাইলস, ফিসার, পলিপ ইত্যাদি): মোট খরচ প্রায় ১৫,০০০ টাকা – ৮০,০০০ টাকা বা তার বেশি

মলদ্বারে রক্তপাত প্রতিরোধের বাস্তব উপায়

এই সাধারণ অভ্যাসগুলোই অনেক জটিলতা এড়াতে সাহায্য করে।

  • নিয়মিত ও চাপমুক্ত মলত্যাগের অভ্যাস
  • ফল, শাকসবজি ও গোটা শস্যসহ উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার খান
  • প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন
  • মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ এড়িয়ে চলুন
  • নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করুন
  • দীর্ঘ সময় টয়লেটে বসে থাকা এড়িয়ে চলা
  • কোষ্ঠকাঠিন্য হলে শুরুতেই চিকিৎসা নিন
  • বয়স ৪০-এর বেশি হলে নিয়মিত মেডিকেল চেক-আপ করান

মলদ্বার থেকে রক্তপাতের জন্য বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা নিন

মলদ্বারে রক্তপাত কোনো লজ্জার বিষয় নয়, আবার এটিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগও নেই। এটি শরীরের একটি সতর্ক বার্তা। সময়মতো কারণ শনাক্ত করা গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চিকিৎসা সহজ ও নিরাপদ হয়। ভয় নয়, সচেতন সিদ্ধান্তই এখানে সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।

আপনি যদি নির্ভরযোগ্য ও অভিজ্ঞ কারও তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চান, তাহলে ডাঃ তারিক আখতার খান–এর কাছে পরামর্শ নেওয়া একটি যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত হতে পারে। পাইলস, ফিসার, ফিস্টুলা ও অন্যান্য কোলোরেক্টাল রোগের চিকিৎসায় তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

তিনি রোগের মূল কারণ বুঝে, রোগীর অবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে চিকিৎসা পরিকল্পনা করেন। এই সতর্ক ও রোগী-কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য দেশের বিভিন্ন জায়গার মানুষ তার চিকিৎসার ওপর ভরসা রাখেন।

মলদ্বারে রক্তপাত সম্পর্কে সচরাচর প্রশ্নোত্তর

কিছু ক্ষেত্রে হালকা রক্তপাত সাময়িক হতে পারে। তবে বারবার বা কয়েক দিন ধরে রক্ত পড়লে নিজে নিজে সেরে যাবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কারণ না জেনে দেরি করলে সমস্যা জটিল হতে পারে।

হ্যাঁ, পাইলস ছাড়াও এনাল ফিশার, পলিপ, ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ বা কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের কারণে রক্তপাত হতে পারে। তাই শুধু পাইলস ভেবে উপেক্ষা করা ঝুঁকিপূর্ণ।

সব রেকটাল ব্লিডিং ক্যান্সারের কারণে হয় না। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে, বিশেষ করে ৪০ বছরের পর বা দীর্ঘদিন রক্তপাত হলে।

কোলোনোস্কপি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা হিসেবে ধরা হয়। এতে পুরো বৃহদান্ত্র দেখা যায় এবং প্রয়োজনে বায়োপসি নেওয়া সম্ভব হয়, যা সঠিক রোগ নির্ণয়ে সহায়ক।

হ্যাঁ, অনেক ক্ষেত্রে রক্তপাত ব্যথাহীন হতে পারে। বিশেষ করে পাইলস বা কিছু পলিপে ব্যথা নাও থাকতে পারে। ব্যথা না থাকলেও রক্তপাত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।

রক্তপাত যদি দুই–তিন দিনের বেশি স্থায়ী হয়, বা বারবার হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। দেরি করলে চিকিৎসা জটিল হতে পারে।

ঘরোয়া উপায়ে সাময়িক আরাম মিলতে পারে, কিন্তু এটি স্থায়ী সমাধান নয়। প্রকৃত কারণ নির্ণয় ও চিকিৎসা না হলে সমস্যা আবার ফিরে আসতে পারে।

অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব। নিয়মিত মলত্যাগের অভ্যাস, ফাইবারযুক্ত খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং কোষ্ঠকাঠিন্য এড়িয়ে চললে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।

প্রথমবার রক্তপাত হলেও, বিশেষ করে ৪০ বছরের বেশি বয়সে, দেরি না করে কোলোরেক্টাল বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
Call Receptionist
Call for Appointment
Make An Appoinment

Appointment Scheduling Time: 9 AM - 10 PM

  1. Dhanmondi Diagnostic & Consultation Center
  2.  Popular Diagnostic Centre Ltd. Logo
  3. Impulse Hospital
Arrow