মলদ্বারে জ্বালাপোড়া কমানোর উপায়: লক্ষণ, কারণ, চিকিৎসা এবং ঘরোয়া প্রতিকার

মলদ্বারে জ্বালাপোড়া অনেকের জন্য অস্বস্তিকর এবং বিব্রতকর একটি সমস্যা। বাংলাদেশে অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার, অনিয়মিত জীবনযাপন, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং কম পানি পান করার কারণে এই সমস্যা বাড়তে দেখা যায়। অনেকেই টয়লেটের পর জ্বালা, চুলকানি বা হালকা ব্যথা অনুভব করেন।

মলদ্বারে জ্বালাপোড়া কমানোর উপায়

বেশিরভাগ মানুষ বিষয়টি লুকিয়ে রাখেন, নিজে নিজে ওষুধ খান বা ঘরোয়া উপায়ে সমাধান খোঁজেন। কিন্তু জ্বালাপোড়া দীর্ঘদিন থাকলে বা ব্যথা, রক্তপাতের মতো লক্ষণ যুক্ত হলে বিষয়টি হালকা করে দেখার সুযোগ নেই।

এই লেখায় আমরা জানবো — মলদ্বারে জ্বালাপোড়া কেন হয়, বাসায় কী করলে উপকার পাওয়া যায়, এবং কখন একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

মলদ্বারে জ্বালাপোড়া কী এবং কেন হয়?

মলদ্বারের চারপাশে বা ভেতরে জ্বালা, চুলকানি বা পোড়ার মতো অনুভূতিকে সাধারণভাবে মলদ্বারে জ্বালাপোড়া বলা হয়। অনেকেই টয়লেটের পর এই সমস্যা বেশি অনুভব করেন। কারও ক্ষেত্রে ব্যথা যুক্ত হয়, কারও ক্ষেত্রে শুধু অস্বস্তি থাকে।

মলদ্বারে জ্বালাপোড়া কোনো রোগ নয়। বরং এটি বিভিন্ন রোগের একটি লক্ষণ। বাংলাদেশের জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস ও আবহাওয়া এই সমস্যাকে বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে ঢাকার মতো ব্যস্ত শহরে অনিয়মিত খাবার ও পানি কম খাওয়ার প্রবণতা এই সমস্যাকে বাড়ায়।

  • অতিরিক্ত ঝাল ও মসলা যুক্ত খাবার
  • কম পানি পান করা
  • দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য
  • ফাস্টফুডের প্রতি আসক্তি
  • টয়লেটে বেশি সময় বসে থাকা
  • গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া

পায়খানার পর মলদ্বারে জ্বালাপোড়ার প্রধান কারণ

অনেকেই বলেন, “পায়খানা করার পর আগুনের মতো লাগে।” এই অনুভূতিটি হঠাৎ শুরু হতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। এটি সাধারণত তিনটি কারণে হয়; এনাল ফিশার, পাইলস এবং শক্ত মল।

মলদ্বারে জ্বালাপোড়ার প্রধান কারণ

পাইলস (হেমোরয়েড)

পাইলস হলে মলদ্বারের ভেতরের শিরাগুলো ফুলে যায় এবং সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। মলত্যাগের সময় চাপ পড়লে সেই অংশে জ্বালা শুরু হয়। অনেকের ক্ষেত্রে চুলকানি, ভারী লাগা বা রক্তপাতও দেখা যায়। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য, ঝাল খাবার এবং দীর্ঘসময় টয়লেটে বসে থাকার কারণে পাইলস খুব সাধারণ একটি সমস্যা।

এনাল ফিশার

মলদ্বারের চামড়ায় ছোট ফাটা বা ক্ষত তৈরি হলে তাকে এনাল ফিশার বলা হয়। শক্ত বা বড় মল বের হওয়ার সময় এটি হয় বেশি। ফিশার থাকলে মলত্যাগের সময় তীব্র ব্যথা হয় এবং পরে দীর্ঘসময় জ্বালাপোড়া থাকতে পারে। অনেক সময় রোগীরা ব্যথার ভয়ে টয়লেট দেরি করেন, এতে সমস্যা আরও বাড়ে।

কোষ্ঠকাঠিন্য

দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে মল শক্ত ও শুষ্ক হয়ে যায়। শক্ত মল বের হওয়ার সময় মলদ্বারের ভেতরে ঘর্ষণ হয়। এতে চামড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জ্বালা শুরু হয়। নিয়মিত পানি কম খাওয়া ও ফাইবারের অভাব এই সমস্যাকে বাড়িয়ে দেয়।

ডায়রিয়া

অনেকেই মনে করেন শুধু শক্ত মলেই সমস্যা হয়। কিন্তু ঘন ঘন পাতলা পায়খানা হলেও জ্বালাপোড়া হতে পারে। বারবার মলত্যাগের ফলে মলদ্বারের ত্বক সংবেদনশীল হয়ে যায়। অতিরিক্ত মুছামুছিও জ্বালা বাড়ায়।

ইনফেকশন

ফাঙ্গাল বা ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ থেকেও মলদ্বারে চুলকানি ও জ্বালাপোড়া দেখা দেয়। আর্দ্র পরিবেশ, ঘাম, অপরিষ্কার থাকা বা ডায়াবেটিসের মতো রোগ থাকলে ঝুঁকি বাড়ে। অনেকেই লজ্জার কারণে চিকিৎসা নিতে দেরি করেন, ফলে সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়।

অতিরিক্ত ঝাল খাবার

বাংলাদেশে ঝাল খাবার খুব সাধারণ। কিন্তু অতিরিক্ত মরিচ ও মসলা অন্ত্রকে উত্তেজিত করে এবং মলত্যাগের সময় মলদ্বারে জ্বালাপোড়া বাড়াতে পারে। যাদের পাইলস বা ফিশার আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বেশি হয়। বারবার এমন হলে ঝাল কমানো এবং হালকা খাবার খাওয়া উপকার দেয়।

নোট: যদি জ্বালা কয়েক মিনিট স্থায়ী হয় এবং সাথে তীব্র ব্যথা থাকে, তাহলে ফিশারের সম্ভাবনা বেশি। যদি চুলকানি ও অস্বস্তি বেশি হয়, তাহলে পাইলস বা ইনফেকশন হতে পারে।

মলদ্বারে জ্বালাপোড়া কমানোর ঘরোয়া উপায়

প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু সহজ ঘরোয়া পদক্ষেপে মলদ্বারের জ্বালাপোড়া অনেকটাই কমানো যায়। নিচে কিছু সহজ ও কার্যকর ঘরোয়া উপায় দেওয়া হলো, যেগুলো প্রাথমিক পর্যায়ের মলদ্বারের জ্বালাপোড়া কমাতে সহায়তা করতে পারে। নিয়মিত অনুসরণ করলে অনেক ক্ষেত্রেই আরাম পাওয়া যায়।

  • ১. গরম পানির সেঁক (সিটজ বাথ): একটি পাত্রে কুসুম গরম পানি নিয়ে ১০-১৫ মিনিট বসে থাকুন। দিনে ২ বার করলে উপকার পাওয়া যায়। এটি রক্তসঞ্চালন বাড়ায় এবং ব্যথা কমায়।
  • ২. ব্যথানাশক ওষুধ: প্যারাসিটামল (Paracetamol) বা আইবুপ্রোফেন (Ibuprofen)-এর মতো সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধ ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
  • ৩. ঝাল ও তেল কমানো: খাদ্য তালিকায় ঝাল কমান। হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খান।
  • ৪. পর্যাপ্ত পানি পান: প্রতিদিন অন্তত ২-৩ লিটার পানি পান করুন। এতে মল নরম থাকে।
  • ৫. ফাইবারযুক্ত খাবার: শাকসবজি, ফল, ভুসিযুক্ত আটা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমে।
  • ৬. মশলাদার খাবার এড়িয়ে চলুন: অতিরিক্ত মশলাদার খাবার বা পানীয় মলদ্বার দিয়ে বের হওয়ার সময় জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে, তাই এগুলো এড়িয়ে চলুন।
  • ৭. টিস্যুর ব্যবহার কমান: শুষ্ক টিস্যু দিয়ে ঘষা দিলে জ্বালা বাড়ে। সম্ভব হলে পানি ব্যবহার করুন।
  • ৮. টয়লেটে বেশি সময় না বসা: মোবাইল নিয়ে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকবেন না। এতে চাপ বাড়ে।
নোট: যদি ৫-৭ দিনের মধ্যে উপকার না পান, তাহলে দেরি না করে ডাক্তার দেখান।

পায়খানার রাস্তায় ব্যথা হলে করণীয়

পায়খানার রাস্তায় ব্যথা অনেক সময় হঠাৎ শুরু হয়, আবার কারও ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে বাড়ে। টয়লেটের সময় বা পরে তীব্র ব্যথা হলে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। এটি পাইলস, এনাল ফিশার, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ইনফেকশনের কারণে হতে পারে। তাই শুধু ব্যথা কমানো নয়, কারণ বোঝাও গুরুত্বপূর্ণ।

পায়খানার রাস্তায় ব্যথা
  • কুসুম গরম পানিতে দিনে ১–২ বার ১০–১৫ মিনিট সিটজ বাথ নিন
  • প্রতিদিন ২–৩ লিটার পানি পান করুন
  • শাকসবজি, ফল ও ফাইবারযুক্ত খাবার খান
  • অতিরিক্ত ঝাল ও মসলা এড়িয়ে চলুন
  • টয়লেটে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকবেন না
  • শক্ত মল এড়াতে কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ন্ত্রণে রাখুন
  • অজানা ক্রিম বা ওষুধ নিজে নিজে ব্যবহার করবেন না
  • রক্তপাত বা তীব্র ব্যথা হলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

মলদ্বারের জ্বালাপোড়া বা ব্যথা যদি কয়েকদিনেও না কমে, বারবার রক্তপাত হয়, তীব্র ব্যথার কারণে স্বাভাবিক মলত্যাগে সমস্যা হয় বা জ্বর ও পুঁজ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। দীর্ঘদিন অবহেলা করলে সমস্যা জটিল হতে পারে, তাই সঠিক কারণ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়াই নিরাপদ সিদ্ধান্ত। নিচের লক্ষণগুলোর যেকোনোটি থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ জরুরি:

  • মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত
  • তীব্র ব্যথা
  • ১ সপ্তাহেও উপকার না পাওয়া
  • জ্বর
  • পুঁজ বা দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব

বাংলাদেশে মলদ্বারের আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি

মলদ্বারে জ্বালাপোড়া বা ব্যথার চিকিৎসা একরকম সবার জন্য নয়। কোন কারণে সমস্যা হচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করেই চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়। সঠিক পরীক্ষা ও রোগ নির্ণয়ের পর উপযুক্ত পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়, যাতে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি এড়ানো যায় এবং দ্রুত আরাম পাওয়া সম্ভব হয়।

পায়খানার রাস্তায় জ্বালাপোড়া/ব্যথার ঔষধ

পায়খানার রাস্তায় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা হলে ফার্মেসিতে কিছু ওভার-দ্য-কাউন্টার (OTC) মলম ও সাপোজিটরি পাওয়া যায়, যা সাময়িকভাবে আরাম দিতে পারে। এগুলো সাধারণত পায়ুপথের ব্যথা, ফোলা এবং চুলকানি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তবে মনে রাখতে হবে, এগুলো মূল রোগ সারায় না।

  • Erian Ointment (ইরিয়ান অয়েন্টমেন্ট): এটি একটি স্থানীয় ক্রিম বা অয়েন্টমেন্ট, যা আক্রান্ত স্থানে সরাসরি লাগানো হয়। প্রদাহ কমায়, জ্বালা ও চুলকানি নিয়ন্ত্রণ করে। এতে ব্যথা কমানোর উপাদানও থাকে, যা জায়গাটি কিছুটা অসাড় করে আরাম দেয়।
  • Proctosedyl BD Cream (প্রক্টোসেডিল বিডি ক্রিম): এটিও একটি স্থানীয় মলম, যা ভেতরের ও বাইরের পাইলসে ব্যবহৃত হয়। প্রদাহ কমায় এবং ব্যথা ও অস্বস্তি হালকা করতে সাহায্য করে। অনেক ক্ষেত্রে এটি সাপোজিটরি আকারেও পাওয়া যায়, যা মলদ্বারের ভেতরে কাজ করে।
  • Anustat Ointment (অ্যানুস্ট্যাট অয়েন্টমেন্ট): এটি একটি স্থানীয় অয়েন্টমেন্ট, যা জ্বালা, ফোলা ও লালভাব কমাতে সাহায্য করে। ফিশার বা পাইলসের কারণে হওয়া অস্বস্তিতে ব্যবহার করা হয়।
  • Anacaine HC Cream (অ্যানাকেইন এইচসি ক্রিম): এটি মূলত একটি পেইন রিলিফ ক্রিম, যা তীব্র ব্যথা সাময়িকভাবে কমায়। জ্বালাপোড়া ও প্রদাহ হালকা করতে সহায়ক।
  • স্টুল সফটনার বা ল্যাক্সেটিভ: এগুলো খাওয়ার ওষুধ, যা শক্ত মল নরম করে। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে ব্যবহার করা হয়, যাতে মলত্যাগের সময় কম চাপ পড়ে।
  • অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ: যদি সংক্রমণ থাকে, তখন এই ওষুধ দেওয়া হয়। এগুলো জীবাণু দূর করে এবং সংক্রমণজনিত জ্বালা কমাতে সাহায্য করে।
নোট: নিজে নিজে ওষুধ ব্যবহার না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়াই নিরাপদ। এসব ওষুধ সাময়িক আরাম দিতে পারে, কিন্তু মূল কারণ ঠিক না করলে সমস্যা বারবার ফিরে আসতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ব্যথা বা রক্তপাত থাকলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

লেজার চিকিৎসা

পাইলসের ক্ষেত্রে বর্তমানে লেজার একটি আধুনিক ও কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে তুলনামূলক কম কাটা-ছেঁড়া লাগে, রক্তপাত কম হয় এবং রোগী দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। তবে সবার ক্ষেত্রে এটি প্রয়োজন হয় না; রোগের অবস্থার ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মিনিমালি ইনভেসিভ পদ্ধতি

মিনিমালি ইনভেসিভ পদ্ধতির মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে ছোট ও স্বল্প-জটিল প্রক্রিয়ায় সমস্যার সমাধান করা যায়। যেমন কিছু বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে ফোলা অংশ নিয়ন্ত্রণ করা বা ক্ষত সারানোর ব্যবস্থা করা। এতে হাসপাতালে দীর্ঘসময় থাকতে হয় না।

সার্জারি

রোগ জটিল বা দীর্ঘদিনের হলে অপারেশন প্রয়োজন হতে পারে। তবে আধুনিক চিকিৎসায় সবার জন্য সার্জারি বাধ্যতামূলক নয়। অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ রোগের অবস্থা দেখে নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি নির্বাচন করেন।

পাইলস নাকি ফিশার – পার্থক্য বুঝবেন কীভাবে?

মলদ্বারের ব্যথা বা জ্বালাপোড়া হলে অনেকেই বিভ্রান্ত হন—এটি পাইলস, নাকি এনাল ফিশার? দুই রোগের কিছু মিল থাকলেও লক্ষণ ও অনুভূতিতে পার্থক্য আছে। সঠিক পার্থক্য বোঝা জরুরি, কারণ চিকিৎসা পদ্ধতিও আলাদা হতে পারে।

পাইলস নাকি ফিশার – পার্থক্য বুঝবেন কীভাবে?
বিষয় পাইলস এনাল ফিশার
ব্যথা মাঝারি তীব্র
রক্তপাত হতে পারে হতে পারে
জ্বালা সাধারণ খুব বেশি
স্থায়িত্ব দীর্ঘদিন মলত্যাগের পর বেশি
কারণ শিরা ফুলে যাওয়া চামড়ায় ফাটা বা ক্ষত
ফোলা বাইরে ফোলা অংশ দেখা যেতে পারে সাধারণত ফোলা দেখা যায় না
চুলকানি বেশি হতে পারে কম, তবে জ্বালা বেশি
চিকিৎসা পদ্ধতি ওষুধ, লেজার বা অন্যান্য পদ্ধতি মল নরম রাখা, ওষুধ, প্রয়োজনে ছোট প্রক্রিয়া
নোট: সঠিক পার্থক্য নির্ধারণে শারীরিক পরীক্ষা প্রয়োজন।

মলদ্বারে জ্বালাপোড়া প্রতিরোধের উপায় কি?

মলদ্বারে জ্বালাপোড়া পুরোপুরি এড়ানো সবসময় সম্ভব না হলেও কিছু নিয়ম মেনে চললে ঝুঁকি অনেক কমানো যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার ছোট পরিবর্তনই বড় উপকার দেয়।

  • নিয়মিত পানি পান
  • ফাইবারযুক্ত খাবার
  • কোষ্ঠকাঠিন্য এড়িয়ে চলা
  • ঝাল খাবার কমানো
  • পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা
  • নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম
নোট: এই অভ্যাসগুলো মেনে চললে পাইলস, ফিশার ও অন্যান্য মলদ্বারের সমস্যার ঝুঁকি কমে। তবুও সমস্যা বারবার হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

পায়খানার রাস্তায় ব্যথা: ডাঃ তারিক আখতার খান এর পরামর্শ নিন

ডাঃ তারিক আখতার খান একজন অভিজ্ঞ কোলোরেক্টাল ও অ্যানাল রোগ বিশেষজ্ঞ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পাইলস, ফিশার ও অন্যান্য মলদ্বারের জটিল রোগের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। তিনি রোগীর সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে শোনেন। প্রয়োজন অনুযায়ী আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করেন। 

অনেকে লজ্জা বা ভয় থেকে চিকিৎসা নিতে দেরি করেন। কিন্তু মনে রাখবেন, এটি সাধারণ শারীরিক সমস্যা। সময়মতো চিকিৎসা নিলে জটিলতা এড়ানো যায়। অভিজ্ঞ কোলোরেক্টাল বিশেষজ্ঞ সঠিকভাবে পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করেন। অপ্রয়োজনীয় অপারেশন এড়িয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেন।

মলদ্বারের সমস্যা অবহেলা নয়, সময়মতো চিকিৎসা জরুরি

মলদ্বারে জ্বালাপোড়া ছোট সমস্যা মনে হলেও এটি বড় রোগের লক্ষণ হতে পারে। প্রাথমিকভাবে সচেতনতা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। তবে ব্যথা, রক্তপাত বা দীর্ঘদিনের সমস্যা হলে নিজে চিকিৎসা না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ সিদ্ধান্ত। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নিলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

পায়খানার রাস্তায় জ্বালাপোড়া: সাধারণ জিজ্ঞাসা

মলদ্বারে জ্বালাপোড়া সাধারণত পাইলস, এনাল ফিশার, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ইনফেকশনের কারণে হয়। শক্ত মল বের হওয়ার সময় ভেতরের অংশে ঘর্ষণ হয়, এতে জ্বালা শুরু হয়। অতিরিক্ত ঝাল খাবার ও ডায়রিয়াও এই সমস্যা বাড়াতে পারে।

সাধারণ বা নতুন ফিশার হলে ২–৪ সপ্তাহের মধ্যে ভালো হতে পারে, যদি সঠিক চিকিৎসা ও মল নরম রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে পুরোনো বা দীর্ঘদিনের ফিশার হলে চিকিৎসা ছাড়া সহজে সারে না। সে ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন।

অতিরিক্ত ঝাল, ভাজাপোড়া, শক্ত ও কম ফাইবারযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। কম পানি পান করলেও সমস্যা বাড়ে। সহজপাচ্য ও ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া ভালো।

মলদ্বার ফেটে গেলে (ফিশার হলে) কুসুম গরম পানিতে সিটজ বাথ নিতে পারেন। মল নরম রাখার জন্য পানি ও ফাইবার বাড়ান। ব্যথা বেশি হলে বা রক্তপাত হলে দেরি না করে ডাক্তার দেখান।

পাইলস হলে টয়লেটের সময় রক্তপাত হতে পারে, মলদ্বারে ফোলা বা চুলকানি দেখা যায়। অনেক সময় ভারী লাগা বা অস্বস্তিও থাকে। নিশ্চিত হওয়ার জন্য শারীরিক পরীক্ষা প্রয়োজন।

ফিস্টুলা হলে মলদ্বারের পাশে ছোট ছিদ্র বা ফোলা দেখা যেতে পারে। পুঁজ বা দুর্গন্ধযুক্ত তরল বের হতে পারে। মাঝে মাঝে ব্যথা ও জ্বরও হতে পারে।

ফিস্টুলা সাধারণত সম্পূর্ণ ভালো করতে ছোট বা বড় প্রক্রিয়া প্রয়োজন হয়। শুধু ওষুধে সাময়িকভাবে উপসর্গ কমতে পারে, কিন্তু স্থায়ী সমাধানের জন্য বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা দরকার হয়।

শক্ত মল, দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য, বারবার ডায়রিয়া বা অতিরিক্ত চাপের কারণে ফিশার হতে পারে। কখনও প্রসবের পরও এই সমস্যা দেখা যায়।

পাইলস, ইনফেকশন, অতিরিক্ত ঘাম, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব বা অ্যালার্জির কারণে চুলকানি হতে পারে। দীর্ঘদিন চুলকানি থাকলে কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

সতর্কতাঃ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যসমূহ শুধুমাত্র সচেতনতা ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনোভাবেই চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। চিকিৎসা সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

Call Receptionist
Call for Appointment
Make An Appoinment

Appointment Scheduling Time: 9 AM - 10 PM

  1. Dhanmondi Diagnostic & Consultation Center
  2.  Popular Diagnostic Centre Ltd. Logo
  3. Impulse Hospital
Arrow