ইচ্ছে বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে মল বা বায়ু নির্গত হওয়া (Fecal Incontinence) কোনো অবহেলা করার মতো
বিষয়
নয়, বরং এটি একটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য শারীরিক সমস্যা। আন্তর্জাতিক কোলোরেক্টাল গবেষণা জার্নাল
অনুযায়ী, সামাজিক সংকোচ ও তীব্র লোকলজ্জার কারণে প্রায় ৭০% ভুক্তভোগীই এই রোগটি চেপে রাখেন, যা
পরবর্তীতে পাইলস, ফিস্টুলা কিংবা রেকটাল প্রোল্যাপ্সের মতো জটিল ঝুঁকি তৈরি করে। সাধারণত প্রসবকালীন
আঘাত, মলদ্বারের স্ফিংক্টার পেশী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, কিংবা দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়রিয়ায়
ভুগলে
এই নিয়ন্ত্রণহীনতা দেখা দেয়।
হঠাৎ মলের তীব্র বেগ এবং টয়লেটে যাওয়ার আগেই লিক হওয়া এর প্রধান লক্ষণ। মল ধারণের সমস্যার সঠিক
চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন একজন অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও সহানুভূতিশীল বিশেষজ্ঞ, যিনি রোগীর মানসিক অবস্থা ও
শারীরিক জটিলতা—উভয়কেই সমান গুরুত্ব দেন। ডাঃ তারিক আখতার খান বাংলাদেশে এই ধরনের স্পর্শকাতর
কোলোরেক্টাল সমস্যার আধুনিক চিকিৎসায় এক অনন্য নাম।
সঠিক সময়ে উন্নত রোগনির্ণয়, জীবনযাত্রার পরিবর্তন, বিশেষ পেলভিক ফ্লোর থেরাপি এবং প্রয়োজনে আধুনিক
সার্জারির মাধ্যমে আপনি ফিরে পেতে পারেন স্বাভাবিক ও স্বস্তিদায়ক জীবন। আপনার যেকোনো দ্বিধা বা
সংকোচ দূর করে একটি সুস্থ জীবনের দিকে প্রথম পদক্ষেপ নিতে আজই তাঁর চেম্বারে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক
করুন।
মলদ্বার দিয়ে কঠিন মল, পাতলা মল বা মিউকাস অনিচ্ছাকৃতভাবে বের হয়ে যাওয়াকেfecal incontinence
বলা হয়। সমস্যা খুব সামান্যও হতে পারে। যেমন গ্যাস ছাড়ার সময় অল্প মল বের হওয়া। আবার গুরুতর
অবস্থায়
রোগী মলত্যাগের বেগ পেলেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। সাধারণভাবে এটি দুইভাবে দেখা যায়।
Urge incontinence: রোগী মলত্যাগের তীব্র বেগ অনুভব করেন, কিন্তু টয়লেটে
যাওয়ার আগ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারেন না।
Passive incontinence: রোগী বুঝতেই পারেন না যে মল বা মিউকাস বের হয়ে যাচ্ছে।
অনেক সময় পরে কাপড়ে দাগ দেখে বিষয়টি বোঝা যায়।
নোট: দুই ধরনের সমস্যার কারণ এক নাও হতে পারে। তাই শুধু “মল ধরে রাখতে পারছি না” বলেই
চিকিৎসা শুরু না করে কারণটি খুঁজে দেখা জরুরি।
মল ধরে রাখতে না পারার লক্ষণ কী কী?
সব রোগীর উপসর্গ একই রকম হয় না। কারও শুধু মাঝে মাঝে সমস্যা হয়, আবার কারও দৈনন্দিন জীবনই
বাধাগ্রস্ত
হয়ে পড়ে। সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
মলত্যাগের হঠাৎ খুব তীব্র চাপ আসা
টয়লেটে পৌঁছানোর আগেই মল বের হয়ে যাওয়া
অজান্তে অল্প পরিমাণ মল বের হওয়া
আন্ডারওয়্যারে বারবার মলের দাগ দেখা
মলদ্বার দিয়ে মিউকাস বা তরল পদার্থ বের হওয়া
পাতলা পায়খানার সময় নিয়ন্ত্রণ আরও কমে যাওয়া
গ্যাস ছাড়ার সময় মল বের হয়ে যাওয়া
কখন মলত্যাগের প্রয়োজন হয়েছে তা ঠিকভাবে বুঝতে না পারা
মলদ্বারের চারপাশে জ্বালা, চুলকানি বা ত্বকের irritation হওয়া
নোট:বারবার leakage হওয়া, স্বাভাবিক কাজকর্মে সমস্যা তৈরি হওয়া বা সামাজিকভাবে
বাইরে যেতে ভয় লাগা—এসব হলে দ্রুত colorectal specialist-এর পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মল ধারণের সমস্যা কেন হয়? প্রধান কারণ সমূহ
মল ধরে রাখার জন্য মলদ্বারের পেশি, মলাশয়, পেলভিক ফ্লোরের পেশি এবং স্নায়ু একসঙ্গে কাজ করে। এই
অংশগুলোর যেকোনো একটিতে সমস্যা হলে মল ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যেতে পারে। কারও সমস্যা ধীরে ধীরে
বাড়ে,
আবার কারও ক্ষেত্রে হঠাৎ শুরু হয়।
১. দীর্ঘদিনের পাতলা পায়খানা
বারবার পাতলা পায়খানা হলে মল ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়। শক্ত মলের তুলনায় তরল মল দ্রুত নিচে নেমে
আসে
এবং মলদ্বারের পেশির ওপর বেশি চাপ পড়ে। দীর্ঘদিন ডায়রিয়া, অন্ত্রের প্রদাহ বা কিছু হজমের
সমস্যায়
এমন হতে পারে।
২. দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য
কোষ্ঠকাঠিন্য
থেকেও মল অনিচ্ছাকৃতভাবে বের হতে পারে। অনেক দিন মল জমে শক্ত হয়ে থাকলে মলাশয় প্রসারিত হয়ে যায়।
এরপর শক্ত মলের পাশ দিয়ে পাতলা মল বের হয়ে কাপড়ে লেগে যেতে পারে। অনেক রোগী এটিকে ডায়রিয়া মনে
করেন।
৩. মলদ্বারের পেশি দুর্বল হওয়া
মল ধরে রাখার ক্ষেত্রে মলদ্বারের পেশির বড় ভূমিকা আছে। বয়স, পুরোনো আঘাত, মলদ্বারের অপারেশন বা
অন্য
কোনো কারণে এই পেশি দুর্বল হয়ে গেলে মল ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।
৪. সন্তান প্রসবের পর পেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া
কিছু নারীর ক্ষেত্রে স্বাভাবিক প্রসবের সময় মলদ্বার ও পেলভিক ফ্লোরের পেশি আঘাত পেতে পারে। জটিল
প্রসব, বড় শিশুর জন্ম বা সহায়ক যন্ত্র ব্যবহার করে প্রসব করানো হলে এই ঝুঁকি কিছুটা বাড়তে পারে।
সমস্যা অনেক সময় সঙ্গে সঙ্গে না হয়ে কয়েক বছর পরেও দেখা দিতে পারে।
৫. স্নায়ুর সমস্যা
মলাশয় পূর্ণ হয়েছে কি না, কখন মলত্যাগের চাপ এসেছে এবং পেশি কখন শক্ত করতে হবে—এসব বুঝতে স্নায়ু
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডায়াবেটিস, মেরুদণ্ডের আঘাত, স্ট্রোক বা কিছু স্নায়বিক রোগে এই
নিয়ন্ত্রণ
দুর্বল হতে পারে।
৬. মলাশয় নিচে নেমে আসা
কিছু রোগীর ক্ষেত্রে মলাশয়ের একটি অংশ নিচের দিকে নেমে আসে। একে Rectal Prolapse বলা হয়। এতে
মলদ্বার
পুরোপুরি বন্ধ থাকতে পারে না এবং মল বা মিউকাস বের হতে পারে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মলদ্বার ও পেলভিক ফ্লোরের পেশি কিছুটা দুর্বল হতে পারে। একই সঙ্গে
দীর্ঘদিনের
কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়াবেটিস বা অন্য রোগ থাকলে সমস্যা আরও বেশি দেখা দিতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মল ধারণের সমস্যা নিজে কোনো একক রোগ নয়। এটি অন্য কোনো সমস্যার
লক্ষণও হতে পারে। তাই কারণ না জেনে শুধু উপসর্গ কমানোর চেষ্টা করলে স্থায়ী সমাধান নাও হতে পারে।
মল ধারণের সমস্যা কীভাবে পরীক্ষা করা হয়?
চিকিৎসার প্রথম ধাপ হলো কারণ খুঁজে বের করা। একই উপসর্গের পেছনে ভিন্ন রোগ থাকতে পারে, তাই
পরীক্ষা রোগীভেদে আলাদা হয়। প্রথমে চিকিৎসক জানতে চাইতে পারেন:
সমস্যা কতদিন ধরে
দিনে বা সপ্তাহে কতবার হচ্ছে
পাতলা না শক্ত মল বের হয়
আগে তীব্র বেগ অনুভব হয় কি না
অজান্তে leakage হয় কি না
কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া আছে কি না
আগে কোনো anal/rectal surgery হয়েছে কি না
সন্তান প্রসবের ইতিহাস
অন্য কোনো neurological বা দীর্ঘমেয়াদি রোগ আছে কি না
এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী digital rectal examination করা হতে পারে। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে
anorectal manometry, ultrasound, MRI, defecography, colonoscopy বা
অন্যান্য পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে। সব পরীক্ষা প্রত্যেক রোগীর জন্য লাগে না। একটি bowel
diary রাখাও কাজে আসে। কখন মলত্যাগ হচ্ছে, stool consistency কেমন, কোন খাবারের পর সমস্যা
বাড়ছে এবং কখন leakage হচ্ছে—এসব কয়েকদিন লিখে রাখলে চিকিৎসক কারণ বুঝতে সুবিধা পান।
বাংলাদেশে মল ধারণের সমস্যার চিকিৎসা
মল ধারণের সমস্যার চিকিৎসা (Fecal incontinence treatment) রোগীর বয়স, সমস্যার কারণ, কতদিন
ধরে হচ্ছে এবং মলদ্বারের পেশি ও স্নায়ুর অবস্থা—এসবের ওপর নির্ভর করে। সবার চিকিৎসা এক নয়। অনেক
রোগী শুধু খাদ্যাভ্যাস, ওষুধ এবং নিয়মিত ব্যায়ামেই উপকার পান। আবার পেশি ছিঁড়ে যাওয়া বা মলাশয়
নিচে
নেমে আসার মতো সমস্যায় অপারেশন প্রয়োজন হতে পারে।
১. পায়খানার ধরন ঠিক করা
চিকিৎসার প্রথম লক্ষ্য হলো পায়খানা খুব পাতলা বা খুব শক্ত—দুই অবস্থাই নিয়ন্ত্রণ করা। পাতলা
পায়খানা
হলে এর কারণ খুঁজে চিকিৎসা করতে হয়। আবার কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে জমে থাকা শক্ত মল পরিষ্কার করা এবং
নিয়মিত নরম মলত্যাগের ব্যবস্থা করা দরকার। অনেক সময় পানি, আঁশযুক্ত খাবার বা প্রয়োজন অনুযায়ী
ওষুধ
দেওয়া হয়।
২. খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন
কোন খাবারে সমস্যা বাড়ছে তা লক্ষ্য করা জরুরি। অতিরিক্ত ঝাল, তেলযুক্ত খাবার, বেশি চা-কফি বা কিছু
দুধজাত খাবারে কারও পাতলা পায়খানা বাড়তে পারে। আবার কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে
শাকসবজি, ফল, পর্যাপ্ত পানি এবং আঁশযুক্ত খাবার উপকারী হতে পারে। তবে সবার জন্য একই খাবারের তালিকা
প্রযোজ্য নয়।
৩. নিয়মিত সময়ে টয়লেটে যাওয়ার অভ্যাস
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে টয়লেটে যাওয়ার অভ্যাস তৈরি করলে মলত্যাগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।
বিশেষ করে সকালের নাশতা বা প্রধান খাবারের পর টয়লেটে বসার অভ্যাস কিছু রোগীর জন্য কার্যকর হয়।
এটিকে
bowel training বলা হয়। ফল পেতে কিছু সময় লাগে, তাই নিয়মিত অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
৪. পেলভিক ফ্লোর ও মলদ্বারের পেশির ব্যায়াম
মলদ্বার ও পেলভিক ফ্লোরের পেশি শক্ত করার ব্যায়াম মল ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
রোগীকে শেখানো হয় কীভাবে সঠিক পেশি চিহ্নিত করে সংকোচন করতে হয়। ভুলভাবে করলে উপকার কম হতে পারে,
তাই প্রয়োজনে প্রশিক্ষিত চিকিৎসক বা ফিজিওথেরাপিস্টের নির্দেশনা নেওয়া ভালো।
৫. বায়োফিডব্যাক থেরাপি
কিছু রোগীর ক্ষেত্রে বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে মলদ্বারের পেশি ও মলাশয়ের অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ শেখানো
হয়।
একে Biofeedback Therapy বলা হয়। যাদের মলত্যাগের চাপ ঠিকভাবে বোঝা যায় না বা পেশি ঠিকভাবে
ব্যবহার
করতে পারেন না, তাদের ক্ষেত্রে এটি উপকারী হতে পারে।
৬. প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ
যদি পাতলা পায়খানা প্রধান কারণ হয়, তখন পায়খানা ঘন করার ওষুধ দেওয়া হতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে
মল
নরম রাখার ব্যবস্থা করা হয়। তবে নিজে থেকে দীর্ঘদিন কোনো ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। কারণ ভুল ওষুধে
কখনো
সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
৭. ত্বকের যত্ন
বারবার মল লেগে থাকলে মলদ্বারের চারপাশে জ্বালা, চুলকানি বা ঘা হতে পারে। তাই জায়গাটি পরিষ্কার ও
শুকনো রাখা দরকার। প্রয়োজন হলে protective cream ব্যবহার করা যায়।
৮. প্রয়োজন হলে অপারেশন
যদি মলদ্বারের পেশি ছিঁড়ে যায়, আগের অপারেশনে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা মলাশয় নিচে নেমে আসে, তখন
সার্জারির
প্রয়োজন হতে পারে। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত মলদ্বারের পেশি মেরামত করা হয়। আবার rectal
prolapse থাকলে সেটির জন্য আলাদা অপারেশন প্রয়োজন হতে পারে। সব রোগীর অপারেশন লাগে না। আগে
কারণ নির্ণয় করা হয়, এরপর সবচেয়ে উপযুক্ত চিকিৎসা ঠিক করা হয়।
মল ধরে রাখতে না পারলে কখন দ্রুত ডাক্তার দেখাবেন?
কখনো হঠাৎ পাতলা পায়খানার কারণে একবার মল ধরে রাখতে সমস্যা হতে পারে। কিন্তু নিচের যেকোনো
পরিস্থিতি হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়:
সমস্যা বারবার হচ্ছে
কয়েক সপ্তাহ ধরে মলত্যাগের স্বাভাবিক অভ্যাস বদলে গেছে
সমস্যার কারণে সামাজিক জীবন, বাইরে যাওয়া বা কাজকর্মে প্রভাব পড়ছে
মলত্যাগের অভ্যাসে দীর্ঘদিনের পরিবর্তন, মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়া বা অকারণে ওজন কমে যাওয়ার
মতো
লক্ষণ অন্য কোনো মলাশয় বা বৃহদান্ত্রের রোগের সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে। তাই এটিকে শুধু
“পাইলস” ভেবে নিজে থেকে চিকিৎসা না করে প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
মল ধরে রাখতে না পারার ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টি
মল ধরে রাখতে না পারার সমস্যা (Fecal Incontinence) থাকলে খাবার ও পানীয়ের ধরন উপসর্গে
সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে একই ডায়েট কাজ করে না। সমস্যাটি কোষ্ঠকাঠিন্য,
ডায়রিয়া, অর্শ বা অন্য কোনো কারণে হচ্ছে কি না, তার ওপর খাদ্যাভ্যাসের পরামর্শও বদলে যায়।
কী ধরনের খাবার উপকারী হতে পারে?
প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্যতালিকা মেনে চলা। প্রয়োজনে ডাক্তার
বা
পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে ব্যক্তিভেদে ডায়েট চার্ট তৈরি করা যায়। যদি কোষ্ঠকাঠিন্য বা অর্শের
কারণে মল ধরে রাখতে সমস্যা হয়, তাহলে পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত খাবার ও তরল উপকার করতে
পারে। শাকসবজি, ডাল, ফল, সম্পূর্ণ শস্য এবং পর্যাপ্ত পানি মল নরম ও নিয়মিত রাখতে সাহায্য করতে
পারে।
তবে কতটা ফাইবার বা তরল দরকার, তা রোগীভেদে আলাদা হতে পারে।
কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলা ভালো?
যদি পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়ার সঙ্গে সমস্যা বাড়ে, তাহলে যেসব খাবারে উপসর্গ তীব্র হয় সেগুলো
কমানো
বা এড়িয়ে চলা দরকার। সব খাবার সবার সমস্যা বাড়ায় না। তাই অযথা অনেক খাবার বাদ দেওয়ার চেয়ে কোন
খাবারের পর leakage বা পাতলা পায়খানা বাড়ে, সেটি লক্ষ্য করা বেশি কার্যকর। যেমন—
অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়
অতিরিক্ত চা, কফি ও অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত খাবার
দুধ, পনির, আইসক্রিমসহ কিছু দুগ্ধজাত খাবার
অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত ও তেলেভাজা খাবার
বেশি ফ্রুক্টোজযুক্ত পানীয় ও খাবার
আপেল, পিচ ও নাশপাতির মতো কিছু ফল
অতিরিক্ত ঝাল ও মসলাদার খাবার
সরবিটল, ম্যানিটল, জাইলিটল বা মাল্টিটলযুক্ত ক্যান্ডি, চুইংগাম ও কৃত্রিম মিষ্টিজাত খাবার
খাবারের ডায়েরি রাখুন
কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ খাবারের ডায়েরি রাখলে সমস্যা বোঝা সহজ হয়। কী খেয়েছেন, কখন
মলত্যাগ হয়েছে, মলের ধরন কেমন ছিল এবং কোনো leakage হয়েছে কি না—এসব লিখে রাখুন। এতে কোন খাবার বা
পানীয়ের সঙ্গে উপসর্গের সম্পর্ক আছে তা ধরা সহজ হয়। পরে ডাক্তার বা পুষ্টিবিদের পরামর্শে সেই
খাবারে
প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা যায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, মল ধরে রাখতে না পারার সমস্যায় খাবার নিয়ন্ত্রণ চিকিৎসার একটি অংশ
মাত্র। বারবার সমস্যা হলে মূল কারণ শনাক্ত করে সেই অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়াই বেশি
গুরুত্বপূর্ণ।
মল ধারণের সমস্যায় এর পরামর্শ নিন
ডাঃ তারিক আখতার খান ঢাকায় কোলোরেক্টাল রোগ নির্ণয়
ও সার্জিক্যাল চিকিৎসা নিয়ে কাজ করেন। ১৬ বছরের বেশি চিকিৎসা অভিজ্ঞতায়,
৯,০০০-এর
বেশি মলদ্বার ও মলাশয়ের অপারেশন এবং ৮৫০-এর বেশি কোলোরেক্টাল ক্যানসার সার্জারি
করার
অভিজ্ঞতা রয়েছে। মল ধরে রাখতে না পারার সমস্যা যদি মলদ্বারের পেশি, মলাশয়, পেলভিক ফ্লোর বা অন্য
কোনো কোলোরেক্টাল সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে আগে মূল কারণটি শনাক্ত করা জরুরি।
রোগীর উপসর্গ, আগের অপারেশনের ইতিহাস, মলত্যাগের অভ্যাস এবং প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা দেখে
পরবর্তী
চিকিৎসা পরিকল্পনা করা হয়। এক এক নজরে ডাঃ তারিক আখতার খান এর যোগ্যতা ও অর্জন:
MBBS, FCPS, MS ও FRCS ডিগ্রি
কোলোরেক্টাল সার্জারিতে বিশেষ প্রশিক্ষণ
Royal College of Physicians and Surgeons of Glasgow-এর Fellow
American Society of Colon and Rectal Surgeons-এর সদস্য
মল ধরে রাখতে না পারা নিয়ে অনেকেরই একই ধরনের প্রশ্ন থাকে—কেন হয়, কখন ডাক্তার দেখানো দরকার,
অপারেশন লাগে কি না বা খাবার বদলালে উপকার হয় কি না। নিচে মল ধারণের সমস্যা নিয়ে সাধারণ
কিছু
প্রশ্নের সহজ ও সংক্ষিপ্ত উত্তর দেওয়া হলো।
না। বয়স বাড়লে ঝুঁকি কিছুটা বাড়তে পারে, তবে এই সমস্যা শুধু বয়স্কদের হয় না।
মলদ্বারের পেশি দুর্বল হওয়া, সন্তান প্রসব, দীর্ঘদিনের পাতলা পায়খানা,
কোষ্ঠকাঠিন্য,
স্নায়ুর সমস্যা বা মলাশয়ের রোগের কারণেও কম বয়সে হতে পারে।
মলদ্বারের পেশি বা পেলভিক ফ্লোরের পেশি দুর্বল হলে এমন হতে পারে। দীর্ঘদিনের পাতলা
পায়খানা বা স্নায়ুর সমস্যার কারণেও মলত্যাগের বেগ সামলানো কঠিন হয়ে যায়।
হ্যাঁ। অজান্তে অল্প মল বা মিউকাস কাপড়ে লেগে গেলে সেটিও মল ধরে রাখতে না পারার
সমস্যার
একটি লক্ষণ হতে পারে। বারবার হলে কারণ খুঁজে দেখা উচিত।
হ্যাঁ। দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে শক্ত মল মলাশয়ে জমে যেতে পারে। পরে সেই মলের পাশ
দিয়ে পাতলা মল বের হয়ে কাপড়ে লেগে যেতে পারে।
না। অনেক ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস, মলত্যাগের নিয়ম ঠিক করা, পেলভিক ফ্লোরের
ব্যায়াম, ওষুধ ও বিশেষ প্রশিক্ষণমূলক চিকিৎসা দিয়েই শুরু করা হয়। পেশি
ছিঁড়ে যাওয়া বা অন্য গঠনগত সমস্যা থাকলে অপারেশন প্রয়োজন হতে পারে।
বারবার মল বের হয়ে যাওয়া, মলদ্বারের পেশির দুর্বলতা, মলাশয় নিচে নেমে আসা বা অন্য
কোনো কোলোরেক্টাল সমস্যা থাকলে কোলোরেক্টাল সার্জনের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
সাময়িক পাতলা পায়খানার কারণে একবার সমস্যা হলে কারণ দূর হওয়ার পর ভালো হতে পারে। তবে
বারবার বা দীর্ঘদিন এমন হলে মূল কারণ না জেনে অপেক্ষা করা ঠিক নয়।
অনেক ক্ষেত্রেই এই সমস্যা ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। ফলাফল নির্ভর করে
সমস্যার কারণ, মলদ্বারের পেশি ও স্নায়ুর অবস্থা এবং রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থার
ওপর। তাই সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণ।
মল ধারণের সমস্যায় ভুগছেন?
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে সঠিক চিকিৎসার পথে এগিয়ে যান। আপনার সমস্যার কথা জানান এবং
প্রয়োজনীয় গাইডলাইন নিন।
সতর্কতাঃ
ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যসমূহ শুধুমাত্র সচেতনতা ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনোভাবেই চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। চিকিৎসা সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন।
Learn the early and advanced symptoms of colorectal diseases in Bangladesh and know when to consult Prof. Dr. Tariq Akhtar Khan for timely diagnosis and care.