ডাইভার্টিকুলাইটিস: কারণ, লক্ষণ, রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা

ডাইভার্টিকুলাইটিস হলো বৃহদন্ত্রের দেওয়ালে তৈরি ছোট ছোট থলি বা ডাইভার্টিকুলায় প্রদাহ কিংবা সংক্রমণ হওয়া। রোগটির সুনির্দিষ্ট কারণ সব ক্ষেত্রে জানা না গেলেও বয়স বৃদ্ধি, কম আঁশযুক্ত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ওজন, ধূমপান এবং শারীরিকভাবে কম সক্রিয় জীবনযাপন এর ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সাধারণত পেটের নিচের বাম পাশে একটানা ব্যথা, জ্বর, বমিভাব এবং মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন এই রোগের প্রধান লক্ষণ হিসেবে দেখা যায়। 

ডাইভার্টিকুলাইটিস: কারণ, লক্ষণ, রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা

পেটের নিচের বাম পাশে একটানা ব্যথা হলে সেটিকে শুধু গ্যাস বা কোষ্ঠকাঠিন্য ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে ব্যথার সঙ্গে জ্বর, বমিভাব, পেট ফাঁপা কিংবা মলত্যাগের অভ্যাস বদলে গেলে কোলনের ডাইভার্টিকুলায় প্রদাহ বা সংক্রমণ হয়ে থাকতে পারে। এই অবস্থাকেই ডাইভার্টিকুলাইটিস বলা হয়।

রোগটি হালকা পর্যায়ে ধরা পড়লে অনেক সময় খাদ্যাভ্যাসে সাময়িক পরিবর্তন, ব্যথা নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণেই উন্নতি হয়। তবে কোলনের পাশে পুঁজ জমা, ছিদ্র, ফিস্টুলা বা অন্ত্রে বাধা তৈরি হলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা প্রয়োজন। এমন উপসর্গ দেখা দিলে কোলন ও রেকটামের রোগের চিকিৎসায় অভিজ্ঞ কোলোরেক্টাল সার্জন অধ্যাপক ডা. তারিক আখতার খানের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

ডাইভার্টিকুলাইটিস কী?

ডাইভার্টিকুলাইটিস হলো বৃহদন্ত্রের দেয়ালে তৈরি ছোট থলি বা পাউচে প্রদাহ কিংবা সংক্রমণ হওয়া। এসব থলিকে ডাইভার্টিকুলা বলা হয়। রোগটির প্রধান লক্ষণ হলো পেটের নিচের দিকে স্থায়ী ব্যথা। এর সঙ্গে জ্বর, বমিভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া থাকতে পারে।

রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসক রোগীর উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেন। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা এবং পেটের সিটি স্ক্যান করা হয়। চিকিৎসা নির্ভর করে প্রদাহের তীব্রতা, রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং কোনো জটিলতা তৈরি হয়েছে কি না তার ওপর।

এক নজরে ডাইভার্টিকুলাইটিস

  • আক্রান্ত অঙ্গ: বৃহদন্ত্র বা কোলন
  • প্রধান লক্ষণ: পেটের নিচের বাম পাশে ব্যথা, জ্বর ও মলত্যাগে পরিবর্তন
  • গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা: পেট ও পেলভিসের সিটি স্ক্যান
  • সাধারণ চিকিৎসা: বিশ্রাম, সাময়িক খাদ্য পরিবর্তন ও ব্যথা নিয়ন্ত্রণ
  • অ্যান্টিবায়োটিক: সব রোগীর প্রয়োজন হয় না
  • জটিল চিকিৎসা: অ্যাবসেস ড্রেনেজ বা কোলোরেক্টাল সার্জারি
  • জরুরি লক্ষণ: তীব্র ব্যথা, পেট শক্ত হওয়া, বারবার বমি অথবা পায়খানা ও গ্যাস বন্ধ হয়ে যাওয়া

ডাইভার্টিকুলাইটিসের লক্ষণ সমূহ

ডাইভার্টিকুলাইটিসের উপসর্গ হঠাৎ শুরু হতে পারে। আবার কারও ক্ষেত্রে হালকা ব্যথা দিয়ে শুরু হয়ে কয়েক দিনের মধ্যে ধীরে ধীরে বাড়ে।

  • পেটের নিচের বাম পাশে ব্যথা: এটি রোগটির সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ। ব্যথা সাধারণত একটানা থাকে এবং আক্রান্ত স্থানে চাপ দিলে বাড়তে পারে। তবে সবার ব্যথা একই স্থানে হয় না।
  • জ্বর ও কাঁপুনি: কোলনে প্রদাহ বা সংক্রমণ হলে জ্বর হতে পারে। জ্বরের সঙ্গে কাঁপুনি বা শরীর বেশি দুর্বল লাগলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য: কোলনের প্রদাহের কারণে অন্ত্রের স্বাভাবিক চলাচল ধীর হয়ে যেতে পারে। এতে মল শক্ত হওয়া বা মলত্যাগে সমস্যা দেখা দেয়।
  • ডায়রিয়া: কিছু রোগীর পাতলা পায়খানা বা স্বাভাবিকের চেয়ে ঘন ঘন মলত্যাগ হতে পারে।
  • বমিভাব ও বমি: প্রদাহ বেশি হলে ক্ষুধা কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে বমিভাব বা বমি হতে পারে।
  • পেট ফাঁপা: অন্ত্রের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হলে পেটে গ্যাস, চাপ বা অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে।
  • প্রস্রাবে অস্বস্তি: কোলনের আক্রান্ত অংশ মূত্রথলির কাছে থাকলে ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ বা প্রস্রাবের সময় অস্বস্তি হতে পারে।
  • মলের সঙ্গে রক্ত: ডাইভার্টিকুলার রোগে রক্তপাত হতে পারে। তবে ডাইভার্টিকুলাইটিসের প্রধান লক্ষণ সাধারণত ব্যথা ও জ্বর। মলের সঙ্গে রক্ত গেলে কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।

ডাইভার্টিকুলাইটিসের প্রধান ৪টি ধরন

সব ডাইভার্টিকুলাইটিস রোগীর অবস্থা এক রকম নয়। কারও ক্ষেত্রে প্রদাহ হালকা থাকে এবং ওষুধ ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনেই ভালো হয়ে যায়। আবার কারও ক্ষেত্রে সংক্রমণ ছড়িয়ে অ্যাবসেস, ফিস্টুলা বা কোলনে ছিদ্রের মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে। রোগের শুরু, পুনরাবৃত্তি, প্রদাহের তীব্রতা এবং জটিলতার উপস্থিতির ভিত্তিতে চিকিৎসকেরা সাধারণত ডাইভার্টিকুলাইটিসকে চারটি প্রধান ধরনে ভাগ করেন।

ধরন ০১

তীব্র/Acute ডাইভার্টিকুলাইটিস

উপসর্গ হঠাৎ শুরু হয়। দ্রুত রোগ নির্ণয় ও উপযুক্ত চিকিৎসা দেওয়া হলে অনেক রোগী অল্প সময়ের মধ্যে ভালো হয়ে ওঠেন।

ধরন ০২

পুনরাবৃত্ত ডাইভার্টিকুলাইটিস

চিকিৎসার পর ভালো হওয়ার পরও কোনো কোনো রোগীর আবার প্রদাহ হতে পারে। তবে একাধিকবার সমস্যা হলেই অস্ত্রোপচার করতে হবে—এমন নির্দিষ্ট নিয়ম নেই।

ধরন ০৩

জটিলতাহীন ডাইভার্টিকুলাইটিস

প্রদাহটি কোলনের একটি সীমিত অংশে থাকে। বড় অ্যাবসেস, অন্ত্রে ছিদ্র, ফিস্টুলা বা বাধা থাকে না। এটি রোগটির সবচেয়ে পরিচিত ধরন।

ধরন ০৪

জটিল ডাইভার্টিকুলাইটিস

প্রদাহের সঙ্গে অ্যাবসেস, কোলনে ছিদ্র, পেরিটোনাইটিস, ফিস্টুলা বা অন্ত্রে বাধা তৈরি হলে তাকে জটিল ডাইভার্টিকুলাইটিস বলা হয়।

ডাইভার্টিকুলাইটিসের ঝুঁকির কারণ

ডাইভার্টিকুলাইটিসের নির্দিষ্ট কোন কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে গবেষণায় এমন কিছু বিষয় পাওয়া গেছে, যা এই রোগ হওয়ার বা জটিলতা বাড়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে। নিচে ডাইভার্টিকুলাইটিসের কয়েকটি সাধারণ ঝুঁকির কারণ তুলে ধরা হলো।

  • বয়স বৃদ্ধি: বয়স বাড়ার সঙ্গে কোলনের দেয়ালের গঠন ও স্থিতিস্থাপকতায় পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে দুর্বল স্থানে ডাইভার্টিকুলা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তবে কম বয়সেও ডাইভার্টিকুলাইটিস হতে পারে।
  • কম আঁশযুক্ত খাবার: দীর্ঘদিন কম আঁশ বা ফাইবারযুক্ত খাবার খেলে মল শক্ত এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রবণতা বাড়তে পারে। এতে মলত্যাগের সময় কোলনের ভেতরে বাড়তি চাপ তৈরি হয়।
  • বেশি লাল মাংস গ্রহণ: নিয়মিত বেশি পরিমাণ লাল মাংস এবং কম ফল ও সবজিভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস ডাইভার্টিকুলাইটিসের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
  • অতিরিক্ত ওজন: স্থূলতা, বিশেষ করে পেটের চারপাশে অতিরিক্ত চর্বি, ডাইভার্টিকুলাইটিস ও এর জটিলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
  • শারীরিক পরিশ্রমের অভাব: দীর্ঘ সময় বসে থাকা এবং নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম না করা অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।
  • ধূমপান: ধূমপান অন্ত্রের প্রদাহ এবং ডাইভার্টিকুলার রোগের জটিলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
  • কিছু ওষুধ: নিয়মিত কিছু NSAID-জাতীয় ব্যথানাশক, স্টেরয়েড বা নির্দিষ্ট ওষুধ ব্যবহারের সঙ্গে জটিল ডাইভার্টিকুলাইটিসের সম্পর্ক থাকতে পারে।
  • রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা: যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ গুরুতর হওয়ার এবং জটিলতা তৈরির আশঙ্কা বেশি থাকতে পারে।

ডাইভার্টিকুলাইটিস কেন হয়?

ডাইভার্টিকুলাইটিসের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। ধারণা করা হয়, কোনো ডাইভার্টিকুলামের মুখ বন্ধ হয়ে গেলে সেখানে স্থানীয় প্রদাহ তৈরি হতে পারে। অন্ত্রের জীবাণু, মল জমে থাকা, টিস্যুতে ক্ষুদ্র ক্ষতি এবং কোলনের ভেতরের চাপও ভূমিকা রাখতে পারে। শুধু একটি কারণের জন্য এ রোগ হয়—এমন নয়।

  • ডাইভার্টিকুলামের মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়া
  • কোলনের ভেতরে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়া
  • মল জমে স্থানীয় প্রদাহ হওয়া
  • অন্ত্রের জীবাণুর ভারসাম্য বদলে যাওয়া
  • ডাইভার্টিকুলামের টিস্যুতে ক্ষুদ্র ক্ষতি হওয়া
  • স্থানীয় সংক্রমণের কারণে প্রদাহ ছড়িয়ে পড়া 

ডাইভার্টিকুলাম কীভাবে তৈরি হয়?

কোলনের দেয়ালের কোনো দুর্বল অংশ ভেতরের চাপের কারণে বাইরে দিকে ছোট থলির মতো ফুলে উঠতে পারে। এই থলিকে বলা হয় ডাইভার্টিকুলাম। একাধিক থলি তৈরি হলে অবস্থাটির নাম ডাইভার্টিকুলোসিস। ডাইভার্টিকুলোসিস থাকা মানেই সক্রিয় রোগ বা সংক্রমণ রয়েছে—এমন নয়।

অনেকের কোলনে ডাইভার্টিকুলা থাকলেও কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। অন্য কোনো কারণে কোলনোস্কপি বা পেটের পরীক্ষা করার সময় এটি ধরা পড়তে পারে। ডাইভার্টিকুলায় প্রদাহ বা সংক্রমণ তৈরি হলে তখন তাকে ডাইভার্টিকুলাইটিস বলা হয়।

ডাইভার্টিকুলোসিস ও ডাইভার্টিকুলাইটিসের পার্থক্য

নাম দুটি কাছাকাছি হলেও অবস্থার দিক থেকে এদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য আছে। ডাইভার্টিকুলোসিসে কোলনের দেয়ালে ছোট থলি তৈরি হয়, আর ডাইভার্টিকুলাইটিসে সেই থলিগুলোর এক বা একাধিক অংশে প্রদাহ বা সংক্রমণ দেখা দেয়।

ডাইভার্টিকুলোসিস ও ডাইভার্টিকুলাইটিসের পার্থক্য
বিষয় ডাইভার্টিকুলোসিস ডাইভার্টিকুলাইটিস
মূল অবস্থা কোলনের দেয়ালে ছোট ছোট থলি বা ডাইভার্টিকুলা তৈরি হয় ওই থলিগুলোর এক বা একাধিক অংশে প্রদাহ বা সংক্রমণ হয়
প্রদাহ বা সংক্রমণ সাধারণত থাকে না থাকে
সাধারণ লক্ষণ অনেক রোগীর কোনো লক্ষণ থাকে না পেটব্যথা, জ্বর, বমিভাব ও মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন হতে পারে
ব্যথার ধরন সাধারণত তীব্র ব্যথা থাকে না পেটের নিচের দিকে, বিশেষ করে বাম পাশে ব্যথা হতে পারে
চিকিৎসার প্রয়োজন উপসর্গ না থাকলে অনেক সময় শুধু পর্যবেক্ষণ ও জীবনযাপনে পরিবর্তন যথেষ্ট রোগের তীব্রতা অনুযায়ী ওষুধ, খাদ্য পরিবর্তন, হাসপাতালে চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচার লাগতে পারে
সহজ ব্যাখ্যা কোলনে থলি তৈরি হওয়া সেই থলিতে প্রদাহ বা সংক্রমণ হওয়া

ডাইভার্টিকুলোসিস হলে কখন জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন?

এগুলো কোলনে ছিদ্র, অন্ত্রে বাধা, অ্যাবসেস বা পেটের ভেতর সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। নিচের কোনো লক্ষণ থাকলে অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া উচিত:

  • পেটের ব্যথা তীব্র বা ক্রমশ বাড়ছে
  • পেট শক্ত হয়ে গেছে
  • জ্বর কমছে না
  • বারবার বমি হচ্ছে
  • পানি বা খাবার গ্রহণে অক্ষমতা
  • গুরুতর পানিশূন্যতা
  • পায়খানা ও গ্যাস বন্ধ হয়ে গেছে
  • মলের সঙ্গে বেশি রক্ত যাচ্ছে
  • পেট অতিরিক্ত ফুলে গেছে
  • খুব দুর্বল লাগছে বা মাথা ঘুরছে
  • সিটি স্ক্যানে অ্যাবসেস, ছিদ্র বা বাধা
  • চিকিৎসা শুরু করার পরও লক্ষণ বাড়ছে

ডাইভার্টিকুলাইটিস রোগ কীভাবে নির্ণয় করা হয়?

পেটের বাম পাশের ব্যথা হলেই ডাইভার্টিকুলাইটিস নিশ্চিত বলা যায় না। অ্যাপেন্ডিসাইটিস, কোলাইটিস, ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম, কিডনিতে পাথর, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কোলনের টিউমারেও কাছাকাছি উপসর্গ হতে পারে। তাই রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা দরকার।

রোগের ইতিহাস

রোগ নির্ণয়ের প্রথম ধাপে চিকিৎসক রোগীর উপসর্গ এবং পূর্বের স্বাস্থ্যগত তথ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। এতে সম্ভাব্য কারণ নির্ধারণ করা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা বেছে নেওয়া সহজ হয়। সাধারণত চিকিৎসক নিচের বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে চাইতে পারেন:

  • ব্যথা কখন শুরু হয়েছে
  • ব্যথার সঠিক স্থান কোথায়
  • জ্বর বা বমি আছে কি না
  • কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া হয়েছে কি না
  • আগে একই ধরনের সমস্যা হয়েছিল কি না
  • রোগী কী ধরনের ওষুধ ব্যবহার করছেন
  • আগে কোলনোস্কপি করা হয়েছিল কি না

শারীরিক পরীক্ষা

চিকিৎসক পেটের কোন অংশে চাপ দিলে ব্যথা হচ্ছে, কোনো জায়গা অস্বাভাবিকভাবে শক্ত লাগছে কি না এবং পেট ফুলে আছে কি না তা পরীক্ষা করেন। একই সঙ্গে পেটের পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া, তীব্র সংবেদনশীলতা বা পেরিটোনাইটিসের সম্ভাব্য লক্ষণ আছে কি না তাও দেখা হয়। রোগীর জ্বর, পালস এবং সামগ্রিক শারীরিক অবস্থাও মূল্যায়ন করা হতে পারে।

রক্ত পরীক্ষা

রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরে সংক্রমণ বা প্রদাহের লক্ষণ আছে কি না বোঝা যায়। বিশেষ করে শ্বেত রক্তকণিকা ও প্রদাহের সূচক বেড়েছে কি না দেখা হয়। পাশাপাশি রক্তস্বল্পতা, কিডনির কার্যক্রম, ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য এবং পানিশূন্যতার সম্ভাবনাও যাচাই করা হতে পারে।

প্রস্রাব পরীক্ষা

পেটের নিচের দিকে ব্যথা সব সময় কোলনের সমস্যার কারণে হয় না। মূত্রনালির সংক্রমণ বা কিডনিতে পাথর হলেও কাছাকাছি ধরনের ব্যথা হতে পারে। তাই প্রস্রাবে সংক্রমণ, রক্ত বা অন্য কোনো অস্বাভাবিকতা আছে কি না দেখতে প্রস্রাব পরীক্ষা করা হয়।

পেট ও পেলভিসের সিটি স্ক্যান

ডাইভার্টিকুলাইটিস শনাক্ত করার ক্ষেত্রে সিটি স্ক্যান একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এতে কোলনের প্রদাহের স্থান ও তীব্রতা বোঝা যায়। সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে আরও দেখা যায়:

  • অ্যাবসেস বা পুঁজ জমেছে কি না
  • কোলনের দেয়ালে ছিদ্র হয়েছে কি না
  • ফিস্টুলা তৈরি হয়েছে কি না
  • অন্ত্রে বাধা রয়েছে কি না
  • আশপাশের টিস্যুতে সংক্রমণ ছড়িয়েছে কি না

আলট্রাসনোগ্রাম

কিছু ক্ষেত্রে পেটের আলট্রাসনোগ্রাম কোলনের প্রদাহ, আশপাশের টিস্যুর পরিবর্তন বা পুঁজ জমার সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে। তবে ডাইভার্টিকুলাইটিস শনাক্ত করতে এর কার্যকারিতা রোগীর শারীরিক গঠন, আক্রান্ত স্থানের অবস্থান এবং পরীক্ষকের অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে। তাই প্রয়োজন হলে চিকিৎসক সিটি স্ক্যানের পরামর্শ দিতে পারেন।

কোলনোস্কপি

তীব্র ডাইভার্টিকুলাইটিস চলাকালে সাধারণত নিয়মিতভাবে কোলনোস্কপি করা হয় না। প্রদাহ কমার পর চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে পরীক্ষাটি করতে বলতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে রোগী সুস্থ হওয়ার প্রায় ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ পর কোলনোস্কপি বিবেচনা করা হয়। তবে এটি সবার জন্য বাধ্যতামূলক বা একই সময়ের নিয়ম নয়। কোলনোস্কপি প্রয়োজন হবে কি না তা নির্ভর করে:

  • রোগীর বয়স
  • আগের কোলনোস্কপির ফল
  • সিটি স্ক্যানের ফল
  • রোগটি জটিল ছিল কি না
  • রক্তপাত বা ওজন কমার মতো সতর্কতামূলক লক্ষণ রয়েছে কি না
  • কোলন ক্যানসারের সন্দেহ রয়েছে কি না

ডাইভার্টিকুলাইটিসের চিকিৎসা

ডাইভার্টিকুলাইটিসের চিকিৎসা সবার জন্য এক নয়। চিকিৎসক রোগীর বয়স, উপসর্গের তীব্রতা, অন্যান্য রোগ, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং সিটি স্ক্যানের ফল দেখে পরিকল্পনা করেন।

ডাইভার্টিকুলাইটিসের চিকিৎসা

হালকা বা জটিলতাহীন ডাইভার্টিকুলাইটিসের চিকিৎসা

হালকা উপসর্গ এবং কোনো জটিলতা না থাকলে চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে বাড়িতে চিকিৎসা সম্ভব হতে পারে। চিকিৎসার মধ্যে থাকতে পারে:

  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম
  • পানি ও তরল গ্রহণ
  • সাময়িকভাবে সহজপাচ্য খাবার
  • নির্ধারিত ব্যথানাশক
  • উপসর্গের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ
  • নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফলোআপ
নোট: ব্যথা কমানোর জন্য নিজে থেকে NSAID-জাতীয় ওষুধ না খাওয়াই ভালো। কোন ব্যথানাশক ব্যবহার করা নিরাপদ, তা চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে।

সব রোগীর কি অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন?

না। আগে হালকা ডাইভার্টিকুলাইটিসেও নিয়মিত অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হতো। এখন নির্বাচিত কিছু সুস্থ এবং জটিলতাহীন রোগী চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়াও ভালো হতে পারেন। তবে নিচের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হতে পারে:

  • জ্বর বা systemic infection রয়েছে
  • উপসর্গ বেশি
  • রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম
  • গুরুতর অন্য কোনো রোগ রয়েছে
  • রোগী বয়স্ক বা শারীরিকভাবে দুর্বল
  • সিটি স্ক্যানে জটিলতার আশঙ্কা দেখা গেছে

অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন কি না, সেটি রোগী নিজে ঠিক করবেন না। সুস্থ ও প্রাথমিক পর্যায়ের রোগীর অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন নাও হতে পারে, তবে উচ্চ ঝুঁকির রোগীর ক্ষেত্রে এটি উপযুক্ত চিকিৎসার অংশ।

ডাইভার্টিকুলাইটিসে কখন সার্জারীর প্রয়োজন হয়?

সব রোগীর অস্ত্রোপচার লাগে না। অধিকাংশ জটিলতাহীন রোগী চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে ভালো হন। নিচের ক্ষেত্রে কোলোরেক্টাল সার্জারি বিবেচনা করা হতে পারে:

  • কোলনে বড় ছিদ্র হয়েছে
  • পেটের ভেতর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে
  • পেরিটোনাইটিস হয়েছে
  • বড় অ্যাবসেস ড্রেনেজে নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না
  • অন্ত্রে বাধা তৈরি হয়েছে
  • ফিস্টুলা হয়েছে
  • কোলনের আক্রান্ত অংশ সরু হয়ে গেছে
  • ক্যানসার নিশ্চিতভাবে বাদ দেওয়া যাচ্ছে না
  • বারবার গুরুতর সমস্যা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করছে
নোট: সার্জারীতে সাধারণত কোলনের আক্রান্ত অংশ অপসারণ করা হয়। রোগীর অবস্থা ভালো থাকলে কোলনের সুস্থ দুই প্রান্ত আবার যুক্ত করা যায়। গুরুতর সংক্রমণ বা জরুরি অবস্থায় সাময়িক স্টোমা প্রয়োজন হতে পারে।

ডাইভার্টিকুলাইটিসের সম্ভাব্য জটিলতা

ডাইভার্টিকুলাইটিসের বেশির ভাগ রোগী সঠিক চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে সময়মতো চিকিৎসা না হলে বা প্রদাহ গুরুতর হলে কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে। এসব জটিলতা দ্রুত শনাক্ত করা জরুরি, কারণ কোনো কোনো ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

  • অ্যাবসেস: আক্রান্ত স্থানের পাশে পুঁজ জমে থলির মতো অংশ তৈরি হতে পারে। এতে জ্বর ও ব্যথা বাড়ে।
  • কোলনে ছিদ্র: প্রদাহের কারণে কোলনের দেয়ালে ছিদ্র হলে অন্ত্রের জীবাণু ও মল পেটের ভেতরে ছড়িয়ে যেতে পারে।
  • পেরিটোনাইটিস: কোলনের ভেতরের উপাদান পেটের গহ্বরে ছড়িয়ে পড়লে পেরিটোনাইটিস হতে পারে। এটি একটি গুরুতর ও জরুরি অবস্থা।
  • ফিস্টুলা: কোলন এবং মূত্রথলি, ত্বক, যোনিপথ বা অন্ত্রের অন্য অংশের মধ্যে অস্বাভাবিক সংযোগ তৈরি হতে পারে। কোলন ও মূত্রথলির মধ্যে ফিস্টুলা হলে বারবার প্রস্রাবের সংক্রমণ, প্রস্রাবের সঙ্গে বাতাস বের হওয়া বা অন্য অস্বাভাবিক সমস্যা হতে পারে।
  • অন্ত্রে বাধা: বারবার প্রদাহের কারণে ক্ষত এবং শক্ত টিস্যু তৈরি হয়ে কোলনের পথ সরু করতে পারে। এতে পেট ফুলে যাওয়া, বমি এবং মলত্যাগ বন্ধ হওয়ার সমস্যা দেখা দেয়।

ডাইভার্টিকুলাইটিসে কী খাবেন?

খাবারের ধরন রোগের পর্যায়ের ওপর নির্ভর করে। তীব্র ব্যথার সময় এবং পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার পর একই খাদ্যতালিকা অনুসরণ করা ঠিক নয়।

তীব্র উপসর্গের সময়

চিকিৎসক অল্প সময়ের জন্য মুখে খাবার বন্ধ করতে বা তরল বা সহজপাচ্য কম আঁশযুক্ত খাবার খেতে বলতে পারেন। এতে কোলনের ওপর চাপ কম থাকে। দীর্ঘদিন শুধু তরল খাবার খাওয়া উচিত নয়। ব্যথা কমলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক খাবারে ফিরতে হয়। সহনশীলতা অনুযায়ী খাবারের মধ্যে থাকতে পারে:

  • পানি
  • পাতলা স্যুপ
  • নরম ভাত
  • সেদ্ধ আলু
  • ডিম
  • কম মসলার নরম খাবার
  • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অন্যান্য তরল খাবার

সুস্থ হওয়ার পর

হঠাৎ অনেক বেশি আঁশ খেলে গ্যাস বা পেট ফাঁপা বাড়তে পারে। তাই পরিমাণ ধীরে বাড়ানো এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা দরকার। তীব্র প্রদাহ কমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ধীরে ধীরে আঁশযুক্ত খাবার বাড়ানো যেতে পারে। যেমন:

  • শাকসবজি
  • তাজা ফল
  • ডাল
  • ওটস
  • লাল চাল
  • আটার রুটি
  • অন্যান্য সম্পূর্ণ শস্য

ডাইভার্টিকুলাইটিস পুনরায় হওয়ার ঝুঁকি কমানোর উপায়

একবার ডাইভার্টিকুলাইটিস হলে ভবিষ্যতে আবার হতে পারে। তবে কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে।

  • পর্যাপ্ত আঁশ খান: সুস্থ অবস্থায় ফল, সবজি, ডাল এবং সম্পূর্ণ শস্য থেকে আঁশ গ্রহণ করুন। তবে পরিমাণ ধীরে বাড়ান।
  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন: আঁশ মল নরম রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু পর্যাপ্ত পানি না খেলে হঠাৎ আঁশ বাড়ানোর পর কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।
  • নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করুন: নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম অন্ত্রের চলাচল এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
  • স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন: অতিরিক্ত ওজন থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শে ধীরে ওজন কমানো যেতে পারে।
  • ধূমপান বন্ধ করুন: ধূমপান অন্ত্রসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি করে এবং প্রদাহের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
  • অপ্রয়োজনীয় ব্যথানাশক এড়িয়ে চলুন: নিজে থেকে দীর্ঘদিন NSAID-জাতীয় ব্যথানাশক খাবেন না। বিশেষ করে আগে ডাইভার্টিকুলাইটিস হয়ে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

ডাইভার্টিকুলাইটিসের চিকিৎসায় ডাঃ তারিক আখতার খান এর পরামর্শ নিন

পেটের নিচে একটানা ব্যথা, জ্বর, পায়খানার অভ্যাসে পরিবর্তন বা একই সমস্যা বারবার হলে শুধু গ্যাসের ওষুধ খেয়ে অপেক্ষা করা ঠিক নয়। ডাইভার্টিকুলাইটিসের সঙ্গে অন্য কোলন রোগের লক্ষণ মিলে যেতে পারে। তাই সঠিক পরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন প্রয়োজন। ডাঃ তারিক আখতার খান একজন কোলোরেক্টাল ও ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন।

তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার মধ্যে MBBS, FCPS, MS এবং FRCS রয়েছে। বর্তমানে তিনি মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যাপক হিসাবে দায়িত্বপালন করছেন। কোলোরেক্টাল সার্জারিতে তাঁর ১৬ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি কোলন, রেকটাম ও মলদ্বারের বিভিন্ন জটিল রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা করে থাকেন।

ডাইভার্টিকুলাইটিসের উপসর্গ, পুনরাবৃত্ত পেটব্যথা অথবা কোলনের জটিল সমস্যা থাকলে ডাঃ তারিক আখতার খান এর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নিতে পারেন।

ডাইভার্টিকুলাইটিস সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্নোত্তর

ডাইভার্টিকুলাইটিস নিয়ে রোগী ও স্বজনদের মনে অনেক সাধারণ প্রশ্ন থাকে। নিচে এ রোগের কারণ, চিকিৎসা, পুনরায় হওয়ার ঝুঁকি এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর দেওয়া হলো।

না। ডাইভার্টিকুলাইটিস কোলন ক্যানসার নয়। এটি কোলনের ছোট থলিতে প্রদাহ বা সংক্রমণ। তবে কোলন ক্যানসার, প্রদাহজনিত অন্ত্রের রোগ এবং অন্য কিছু সমস্যায় কাছাকাছি লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তাই সঠিক রোগ নির্ণয় প্রয়োজন। বিশেষ করে নিচের লক্ষণ থাকলে বিস্তারিত পরীক্ষা জরুরি:

  • কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া
  • দীর্ঘদিন পায়খানার অভ্যাস বদলে যাওয়া
  • রক্তস্বল্পতা
  • মলের সঙ্গে বারবার রক্ত
  • ক্ষুধা কমে যাওয়া
  • বয়স বাড়ার পর নতুন উপসর্গ শুরু হওয়া

ডাইভার্টিকুলাইটিসের কারণে কোলনের পাশে পুঁজ জমে অ্যাবসেস হতে পারে। ছোট অ্যাবসেস কিছু রোগীর ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক ও পর্যবেক্ষণে ভালো হতে পারে। অ্যাবসেস বড় হলে বা ওষুধে না কমলে ইমেজিংয়ের সহায়তায় একটি নল প্রবেশ করিয়ে পুঁজ বের করা হতে পারে। এই প্রক্রিয়াকে পারকিউটেনিয়াস ড্রেনেজ বলা হয়।

হ্যাঁ। জটিলতাহীন ডাইভার্টিকুলাইটিসের অধিকাংশ রোগী উপযুক্ত চিকিৎসায় ভালো হয়ে ওঠেন। তবে ভবিষ্যতে আবার প্রদাহ হতে পারে। নতুন করে ব্যথা বা জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

না। নির্বাচিত কিছু সুস্থ ও জটিলতাহীন রোগী অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়াও ভালো হতে পারেন। তবে জ্বর, গুরুতর উপসর্গ, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা বা জটিলতা থাকলে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হতে পারে।

সব রোগীর অপারেশন লাগে না। কোলনে ছিদ্র, বড় অ্যাবসেস, ফিস্টুলা, অন্ত্রে বাধা বা বারবার গুরুতর সমস্যা হলে অস্ত্রোপচার বিবেচনা করা হয়।

তীব্র প্রদাহ চলাকালে সাধারণত কোলনোস্কপি করা হয় না। প্রদাহ সেরে যাওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষাটি করতে বলতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ পর এটি বিবেচনা করা হয়।

হ্যাঁ, কিছু রোগীর আবার হতে পারে। তবে একবার রোগ হয়েছে মানেই বারবার হবে বা ভবিষ্যতে অবশ্যই অস্ত্রোপচার লাগবে—এমন নয়।

ডাইভার্টিকুলাইটিস কোলন বা বৃহদন্ত্রের একটি রোগ। তাই সঠিক মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং জটিলতার চিকিৎসার জন্য একজন কোলোরেক্টাল সার্জনের পরামর্শ নেওয়া উপযুক্ত। ডাঃ তারিক আখতার খান কোলন, রেকটাম ও মলদ্বারের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করে থাকেন। ডাইভার্টিকুলাইটিস বারবার হলে, অ্যাবসেস, ফিস্টুলা, অন্ত্রে বাধা বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন দেখা দিলে তাঁর মতো অভিজ্ঞ কোলোরেক্টাল সার্জনের মূল্যায়ন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সতর্কতাঃ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যসমূহ শুধুমাত্র সচেতনতা ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনোভাবেই চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। চিকিৎসা সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

Call Receptionist
Call for Appointment
Make An Appoinment

Appointment Scheduling Time: 9 AM - 10 PM

  1. Dhanmondi Diagnostic & Consultation Center
  2.  Popular Diagnostic Centre Ltd. Logo
  3. Impulse Hospital
Arrow