টেনেসমাস: কারণ, লক্ষণ, রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা

পায়খানা করার পরও মনে হচ্ছে আবার যেতে হবে। টয়লেটে বসছেন, কিন্তু তেমন কিছুই বের হচ্ছে না। কিছুক্ষণ পর আবার একই চাপ। সঙ্গে মলদ্বারে অস্বস্তি, ব্যথা বা মোচড়ও থাকতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যাকে টেনেসমাস (Tenesmus) বলা হয়। বিশেষ করে মলত্যাগের সঙ্গে সম্পর্কিত হলে একে রেক্টাল টেনেসমাস বলা হয়। টেনেসমাস নিজে কোনো নির্দিষ্ট রোগ নয়।

টেনেসমাস: কারণ, লক্ষণ, রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা

এটি অন্ত্র, রেক্টাম বা মলদ্বারের ভেতরে থাকা অন্য একটি সমস্যার লক্ষণ। কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে শুরু করে রেক্টামের প্রদাহ, ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ, সংক্রমণ এমনকি কিছু ক্ষেত্রে কোলোরেক্টাল টিউমারের কারণেও এমন অনুভূতি হতে পারে। তাই বারবার হলে শুধু পায়খানার ওষুধ খেয়ে বিষয়টি চাপা দেওয়া ঠিক নয়।

টেনেসমাসের সমস্যা বারবার হলে বা সঙ্গে ব্যথা, রক্তপাত, পেটের অস্বস্তি কিংবা মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন থাকলে কারণ নির্ণয় জরুরি। সঠিক পরীক্ষা ও চিকিৎসার পরামর্শের জন্য কোলোরেক্টাল ও ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন ডাঃ তারিক আখতার খান-এর পরামর্শ নিতে পারেন।

টেনেসমাস কী? রেক্টাল ও ভেসিক্যাল টেনেসমাসের ধরন

পায়খানা করার পরও যদি মনে হয় পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি, আবার চাপ আসে, কিন্তু টয়লেটে গিয়ে তেমন কিছু বের হয় না, এই সমস্যাকে টেনেসমাস বলা হয়। অনেকের ক্ষেত্রে এর সঙ্গে মলদ্বারে চাপ, অস্বস্তি বা বারবার মলত্যাগের অনুভূতিও থাকে।

টেনেসমাস কোনো একক রোগ নয়। এটি সাধারণত শরীরের ভেতরে থাকা অন্য কোনো সমস্যার লক্ষণ। কোন অঙ্গের সঙ্গে সমস্যা জড়িত, তার ভিত্তিতে টেনেসমাসকে প্রধানত দুই ভাগে দেখা হয়। টেনেসমাস সাধারণত দুই ধরনের।

টেনেসমাস কী? রেক্টাল ও ভেসিক্যাল টেনেসমাসের ধরন

১. রেক্টাল টেনেসমাস

এটি মলত্যাগের সঙ্গে সম্পর্কিত। পায়খানা হয়ে যাওয়ার পরও মনে হয় রেক্টামের ভেতরে মল রয়ে গেছে। ফলে বারবার টয়লেটে যাওয়ার চাপ আসে। কোষ্ঠকাঠিন্য, রেক্টামের প্রদাহ, অন্ত্রের সংক্রমণ, আলসারেটিভ কোলাইটিস বা অন্য কোলোরেক্টাল সমস্যায় এমন উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

২. ভেসিক্যাল টেনেসমাস

এটি প্রস্রাবের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রস্রাব করার পরও মূত্রথলি পুরোপুরি খালি হয়নি এমন অনুভূতি থাকে এবং কিছুক্ষণ পর আবার প্রস্রাবের চাপ আসতে পারে। এ ধরনের সমস্যা সাধারণত মূত্রথলি বা মূত্রনালির রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।

নোট: কোলন, রেক্টাম ও মলদ্বারের সমস্যার ক্ষেত্রে রেক্টাল টেনেসমাস বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই বারবার পায়খানার চাপ, অসম্পূর্ণ মলত্যাগের অনুভূতি বা মলদ্বারে অস্বস্তি থাকলে এর আসল কারণ খুঁজে দেখা দরকার।

টেনেসমাসের সাধারণ লক্ষণ কী কী?

সব রোগীর সমস্যা একরকম হয় না। মূল রোগটি কী, তার ওপর লক্ষণ অনেকটাই নির্ভর করে। বিশেষ করে রেক্টামের প্রদাহ বা প্রোকটাইটিস থাকলে টেনেসমাসের সঙ্গে রক্ত বা শ্লেষ্মা যেতে পারে। তবে সাধারণভাবে দেখা যেতে পারে:

টেনেসমাসের সাধারণ লক্ষণ
  • মলত্যাগের পরও পায়খানার চাপ থেকে যাওয়া
  • বারবার টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন অনুভব করা
  • চেষ্টা করেও খুব অল্প মল বের হওয়া
  • মল পুরোপুরি বের হয়নি এমন অনুভূতি
  • মলদ্বার বা রেক্টামে চাপ ও ভারী ভাব
  • পায়খানার সময় বারবার জোর দিতে হওয়া
  • তলপেটে মোচড় বা ক্র্যাম্প
  • মলদ্বারে ব্যথা বা অস্বস্তি
  • মলের সঙ্গে শ্লেষ্মা আসা
  • কোনো কোনো ক্ষেত্রে রক্ত আসা
  • পাতলা পায়খানা বা ঘন ঘন মলত্যাগ
  • কোষ্ঠকাঠিন্যের সঙ্গে একই ধরনের চাপ থাকা

টেনেসমাস কেন হয়? প্রধান ১০টি কারণ

একটি মাত্র কারণে টেনেসমাস হয় না। এটি এমন অনেক রোগের সঙ্গে দেখা দিতে পারে যেগুলো রেক্টাম, কোলন বা মলদ্বারে প্রদাহ, বাধা বা অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা তৈরি করে।

১. কোষ্ঠকাঠিন্য

দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য টেনেসমাসের পরিচিত একটি কারণ। শক্ত মল রেক্টামের ভেতরে আটকে থাকলে বারবার মলত্যাগের চাপ হতে পারে। টয়লেটে অনেকক্ষণ বসেও মনে হতে পারে মল পুরোপুরি বের হয়নি। বিশেষ করে মল জমে শক্ত হয়ে গেলে বা ফিকাল ইমপ্যাকশন তৈরি হলে সমস্যাটি বেশি হতে পারে।

২. রেক্টামের প্রদাহ বা প্রোকটাইটিস

রেক্টামের ভেতরের আবরণে প্রদাহ হলে তাকে প্রোকটাইটিস বলা হয়। এই প্রদাহ রেক্টামের স্নায়ুকে উত্তেজিত করতে পারে। ফলে ভেতরে তেমন মল না থাকলেও বারবার মলত্যাগের চাপ আসে। প্রোকটাইটিসে টেনেসমাসের পাশাপাশি মলদ্বারে অস্বস্তি, রক্ত বা শ্লেষ্মাও দেখা যেতে পারে।

৩. আলসারেটিভ কোলাইটিস ও ক্রোনস ডিজিজ

Ulcerative colitis এবং Crohn's disease ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ বা IBD-এর অন্তর্ভুক্ত। এই রোগগুলো কোলন ও রেক্টামের ভেতরে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ তৈরি করতে পারে। প্রদাহ নিচের অংশে বেশি হলে টেনেসমাস দেখা দিতে পারে। এর সঙ্গে ঘন ঘন পায়খানা, পেটব্যথা, ডায়রিয়া, রক্ত বা শ্লেষ্মা থাকার মতো সমস্যাও থাকতে পারে।

৪. অন্ত্র বা রেক্টামের সংক্রমণ

কিছু ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা পরজীবী অন্ত্র ও রেক্টামে সংক্রমণ ঘটিয়ে প্রদাহ তৈরি করতে পারে। ফলে ডায়রিয়া, পেট মোচড়, জ্বর এবং টেনেসমাস একসঙ্গে দেখা দিতে পারে। কিছু যৌনবাহিত সংক্রমণও প্রোকটাইটিস তৈরি করতে পারে। তাই রোগীর ইতিহাস অনুযায়ী চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নির্বাচন করেন।

৫. ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা IBS

ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS)-এ অন্ত্রের স্বাভাবিক চলাচল ও সংবেদনশীলতার পরিবর্তন হয়। কিছু রোগীর কোষ্ঠকাঠিন্য বেশি থাকে। আবার কারও পাতলা পায়খানা হয়। মলত্যাগের পরও পেট বা রেক্টাম পুরোপুরি খালি হয়নি এমন অনুভূতিও হতে পারে। তবে সব ধরনের অসম্পূর্ণ মলত্যাগের অনুভূতিকেই IBS ধরে নেওয়া উচিত নয়।

৬. পেলভিক ফ্লোরের সমস্যা

মলত্যাগের সময় পেলভিক ফ্লোরের কিছু পেশি ঠিকভাবে শিথিল হওয়া দরকার। এই পেশিগুলোর সমন্বয়ে সমস্যা হলে রোগী চাপ দিলেও সহজে মল বের করতে পারেন না। তখন কোষ্ঠকাঠিন্য, অতিরিক্ত জোর দেওয়া এবং অসম্পূর্ণ মলত্যাগের অনুভূতি তৈরি হতে পারে।

৭. ডাইভার্টিকুলাইটিস

কোলনের দেয়ালে ছোট ছোট পাউচ বা থলি তৈরি হতে পারে, যেগুলোকে ডাইভার্টিকুলা বলা হয়। এসব থলিতে প্রদাহ বা সংক্রমণ হলে তাকে ডাইভার্টিকুলাইটিস বলা হয়। এ অবস্থায় সাধারণত পেটের নিচের দিকে ব্যথা, পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়ার মতো মলত্যাগের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। প্রদাহ যদি রেক্টাম বা কোলনের নিচের অংশে প্রভাব ফেলে, তাহলে মলত্যাগের পরও চাপ থেকে যাওয়া বা বারবার টয়লেটে যাওয়ার অনুভূতি, অর্থাৎ টেনেসমাসও হতে পারে।

৮. কোলোরেক্টাল পলিপ বা টিউমার

রেক্টাম বা কোলনের ভেতরের কোনো পলিপ বা টিউমার স্বাভাবিক মল চলাচলে বাধা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে রেক্টামের কাছাকাছি কোনো টিউমার থাকলে মলত্যাগের পরও কিছু থেকে গেছে এমন অনুভূতি হতে পারে। টেনেসমাস মানেই ক্যান্সার নয়। কিন্তু এর সঙ্গে মলে রক্ত, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, দীর্ঘদিন মলত্যাগের অভ্যাস বদলে যাওয়া বা রক্তশূন্যতা থাকলে বিষয়টি পরীক্ষা করা জরুরি। কোলোরেক্টাল পলিপ ও টিউমারও টেনেসমাসের সম্ভাব্য কারণের মধ্যে রয়েছে।

৯. রেডিয়েশনজনিত প্রদাহ

পেলভিক অঞ্চলে কোনো ক্যান্সারের জন্য রেডিয়েশন থেরাপি নেওয়ার পর কিছু রোগীর রেক্টামে প্রদাহ হতে পারে। একে রেডিয়েশন প্রোকটাইটিস বা রেডিয়েশন কোলাইটিস বলা হতে পারে। এর একটি লক্ষণ টেনেসমাস।

১০. অর্শ বা হেমোরয়েড

অর্শ বা হেমোরয়েডে মলদ্বারের ভেতর বা আশপাশের শিরা ফুলে যেতে পারে। বিশেষ করে ভেতরের অর্শ বড় হলে মলত্যাগের পরও রেক্টাম পুরোপুরি খালি হয়নি এমন অনুভূতি হতে পারে। এর সঙ্গে মলত্যাগের সময় রক্তপাত, অস্বস্তি, চুলকানি বা চাপের অনুভূতি দেখা দিতে পারে। তবে টেনেসমাসের কারণ নিশ্চিত করতে শুধু উপসর্গের ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

টেনেসমাস আর সাধারণ কোষ্ঠকাঠিন্য কি এক?

না, টেনেসমাস আর সাধারণ কোষ্ঠকাঠিন্য এক নয়। কোষ্ঠকাঠিন্যে সাধারণত মল শক্ত হয়, পায়খানা কম হয় বা মলত্যাগে বেশি চাপ দিতে হয়। আর টেনেসমাসে বারবার মলত্যাগের বেগ আসে এবং পায়খানার পরও মনে হয় রেক্টাম পুরোপুরি খালি হয়নি। তবে দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য থেকেও টেনেসমাসের মতো অনুভূতি তৈরি হতে পারে।

বিষয় টেনেসমাস কোষ্ঠকাঠিন্য
মূল সমস্যা মলত্যাগের চাপ বারবার অনুভূত হওয়া মল কম হওয়া, শক্ত হওয়া বা বের করতে কষ্ট হওয়া
মলত্যাগের পর অনুভূতি এখনও কিছু রয়ে গেছে মনে হয় কিছু রোগীর ক্ষেত্রে একই অনুভূতি হতে পারে
পায়খানার সংখ্যা স্বাভাবিক, কম বা বেশিও হতে পারে সাধারণত কম হয়
কারণ প্রদাহ, সংক্রমণ, কোষ্ঠকাঠিন্য, রেক্টাল রোগসহ বিভিন্ন কারণ খাদ্যাভ্যাস, ওষুধ, অন্ত্রের গতি, পেলভিক ফ্লোরসহ নানা কারণ
চিকিৎসা মূল কারণ শনাক্ত করতে হয় কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা
নোট: শুধু “পায়খানা পরিষ্কার হচ্ছে না” শুনেই বিষয়টিকে সাধারণ কোষ্ঠকাঠিন্য হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

টেনেসমাস রোগ নির্ণয় কীভাবে করা হয়?

টেনেসমাসের চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো কেন এই উপসর্গ হচ্ছে সেটি বের করা। রোগীর বয়স, উপসর্গ কতদিন ধরে চলছে, রক্ত যাচ্ছে কি না, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া আছে কি না, ওজন কমছে কি না এবং আগে কোনো অন্ত্রের রোগ ছিল কি না, এসব তথ্য চিকিৎসক বিবেচনা করেন।

রোগের ইতিহাস নেওয়া

রোগ নির্ণয়ের শুরুতে চিকিৎসক রোগীর উপসর্গ, কতদিন ধরে সমস্যা হচ্ছে, মলত্যাগের ধরন, রক্ত বা শ্লেষ্মা আছে কি না এবং পেটব্যথা বা ওজন কমার মতো অন্য কোনো লক্ষণ আছে কি না জানতে চান। এসব তথ্য টেনেসমাসের সম্ভাব্য কারণ বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

  • সমস্যা কতদিন ধরে চলছে
  • দিনে কতবার মলত্যাগ হচ্ছে
  • মল শক্ত নাকি পাতলা
  • রক্ত বা শ্লেষ্মা যাচ্ছে কি না
  • পেট বা মলদ্বারে ব্যথা আছে কি না
  • জ্বর হচ্ছে কি না
  • ওজন কমেছে কি না
  • আগে কোলন বা রেক্টামের রোগ ছিল কি না
  • কোনো ওষুধ নিয়মিত খাওয়া হচ্ছে কি না
  • আগে পেলভিক রেডিয়েশন নেওয়া হয়েছিল কি না

ডিজিটাল রেক্টাল পরীক্ষা

প্রয়োজনে চিকিৎসক গ্লাভস ও লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করে আঙুলের মাধ্যমে মলদ্বার ও রেক্টামের নিচের অংশ পরীক্ষা করেন। এই পরীক্ষায় শক্ত মল জমে আছে কি না, কোনো অস্বাভাবিক গঠন, ব্যথার জায়গা বা মলদ্বারের অন্য সমস্যা আছে কি না—সে সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়।

অ্যানোস্কপি বা প্রোকটোস্কপি

অ্যানোস্কপি বা প্রোকটোস্কপিতে ছোট একটি যন্ত্র দিয়ে মলদ্বার ও রেক্টামের নিচের অংশ সরাসরি দেখা হয়। এতে প্রদাহ, ক্ষত, রক্তপাত, অর্শ বা স্থানীয় কোনো অস্বাভাবিকতা আছে কি না বোঝা সহজ হয়। প্রয়োজনে পরীক্ষার সময় সন্দেহজনক জায়গা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে আরও পরীক্ষা করা হতে পারে।

সিগময়ডোস্কপি

ফ্লেক্সিবল সিগময়ডোস্কপির মাধ্যমে রেক্টাম ও কোলনের নিচের অংশ পরীক্ষা করা হয়। প্রোকটাইটিস, প্রদাহ, আলসার বা অন্য কোনো পরিবর্তন সন্দেহ হলে এই পরীক্ষা কাজে লাগতে পারে। প্রয়োজন হলে পরীক্ষার সময় টিস্যুর নমুনাও সংগ্রহ করা হয়।

কোলনোস্কপি

টেনেসমাস দীর্ঘদিন ধরে থাকলে, বারবার ফিরে এলে বা সঙ্গে মলে রক্ত, ওজন কমে যাওয়া, রক্তশূন্যতা কিংবা মলত্যাগের অভ্যাসে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন থাকলে কোলনোস্কপি প্রয়োজন হতে পারে। এতে পুরো বৃহদান্ত্র ও রেক্টামের ভেতর দেখা যায়। পলিপ, প্রদাহ, টিউমার বা সন্দেহজনক কোনো অংশ পাওয়া গেলে বায়োপসি নেওয়া সম্ভব।

মল ও রক্ত পরীক্ষা

সংক্রমণ, অন্ত্রের প্রদাহ বা রক্তশূন্যতার সম্ভাবনা থাকলে চিকিৎসক মল ও রক্ত পরীক্ষা দিতে পারেন। মলের পরীক্ষায় সংক্রমণ, রক্ত বা প্রদাহের কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে। রক্ত পরীক্ষায় অ্যানিমিয়া, সংক্রমণ বা প্রদাহজনিত পরিবর্তন দেখা যায়। তবে সব রোগীর জন্য একই পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না।

বায়োপসি ও ইমেজিং

এন্ডোস্কোপিক পরীক্ষায় সন্দেহজনক টিস্যু দেখা গেলে নিশ্চিত কারণ জানার জন্য বায়োপসি করা হতে পারে। আবার টিউমার, গভীর প্রদাহ বা আশপাশের অঙ্গের সমস্যা সন্দেহ হলে CT scan, MRI বা অন্য ইমেজিং প্রয়োজন হতে পারে। রোগীর উপসর্গ, বয়স, শারীরিক পরীক্ষা এবং আগের রিপোর্ট দেখে চিকিৎসক উপযুক্ত পরীক্ষা নির্বাচন করেন।

টেনেসমাসের চিকিৎসা কী?

টেনেসমাসের চিকিৎসা নির্ভর করে এর মূল কারণের ওপর। কারণ টেনেসমাস নিজে কোনো আলাদা রোগ নয়; এটি রেক্টাম, কোলন বা মলদ্বারের বিভিন্ন সমস্যার একটি উপসর্গ। তাই শুধু বারবার মলত্যাগের চাপ কমানো নয়, কেন এই অনুভূতি হচ্ছে সেটি শনাক্ত করাই চিকিৎসার প্রথম ধাপ।

রোগীর উপসর্গ, শারীরিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ফল দেখে চিকিৎসক কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা ঠিক করেন।

১. ওষুধের মাধ্যমে টেনেসমাসের চিকিৎসা

  • প্রদাহ কমানোর ওষুধ: আলসারেটিভ কোলাইটিস, ক্রোনস ডিজিজ বা প্রোকটাইটিসের মতো প্রদাহজনিত রোগ থাকলে চিকিৎসক প্রদাহ কমানোর ওষুধ দিতে পারেন। রোগের ধরন ও তীব্রতা অনুযায়ী 5-ASA, corticosteroid বা অন্য ওষুধ প্রয়োজন হতে পারে।
  • সংক্রমণের চিকিৎসা: ব্যাকটেরিয়া বা অন্য কোনো সংক্রমণের কারণে রেক্টাম বা অন্ত্রে প্রদাহ হলে নির্দিষ্ট কারণ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য চিকিৎসা দেওয়া হয়। সব ধরনের টেনেসমাসে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয় না।
  • কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসা: কোষ্ঠকাঠিন্য বা শক্ত মল জমে থাকার কারণে সমস্যা হলে মল নরম রাখা গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী ফাইবার, স্টুল সফটনার বা ল্যাক্সেটিভ পরামর্শ দিতে পারেন। তবে দীর্ঘদিন নিজে থেকে ল্যাক্সেটিভ ব্যবহার করা ঠিক নয়।
  • ব্যথা বা অন্ত্রের খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ: কিছু রোগীর ক্ষেত্রে অন্ত্রের অতিরিক্ত সংকোচন, পেট মোচড় বা ব্যথা বেশি থাকতে পারে। তখন মূল রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি উপসর্গ নিয়ন্ত্রণের জন্য চিকিৎসক প্রয়োজনীয় ওষুধ দিতে পারেন।

২. খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন

টেনেসমাসের কারণ যদি কোষ্ঠকাঠিন্য বা অন্ত্রের কার্যকারিতার সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তাহলে কিছু অভ্যাস উপকার করতে পারে। তবে IBD, অন্ত্রের সংকোচন বা অন্য কিছু রোগে বেশি ফাইবার সবসময় উপযুক্ত নাও হতে পারে। তাই খাবারে বড় পরিবর্তনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
  • সহ্য হলে ধীরে ধীরে খাদ্যে ফাইবার বাড়ান।
  • ফল, শাকসবজি ও পূর্ণ শস্যজাত খাবার রাখুন।
  • নিয়মিত হাঁটা বা হালকা শারীরিক কার্যক্রম করুন।
  • দীর্ঘ সময় মলত্যাগের চাপ চেপে রাখবেন না।
  • অতিরিক্ত জোর দিয়ে মলত্যাগের চেষ্টা এড়িয়ে চলুন।

৩. পেলভিক ফ্লোরের সমস্যার চিকিৎসা

মলত্যাগের সময় পেলভিক ফ্লোরের পেশি ঠিকভাবে কাজ না করলে বারবার চাপ দেওয়া বা অসম্পূর্ণ মলত্যাগের অনুভূতি হতে পারে। এ ধরনের ক্ষেত্রে pelvic floor physiotherapy বা biofeedback therapy উপকারী হতে পারে।

৪. টিউমার বা কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের চিকিৎসা

কোলন বা রেক্টামের টিউমার টেনেসমাসের কারণ হলে চিকিৎসা নির্ভর করবে টিউমারের ধরন, অবস্থান ও পর্যায়ের ওপর। প্রয়োজন অনুযায়ী সার্জারি, কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন থেরাপি বা একাধিক চিকিৎসা একসঙ্গে লাগতে পারে।

৫. রেডিয়েশন প্রোকটাইটিসের চিকিৎসা

আগে পেলভিক অঞ্চলে রেডিয়েশন থেরাপি নেওয়ার পর রেক্টামে প্রদাহ হলে টেনেসমাস দেখা দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে উপসর্গের তীব্রতা অনুযায়ী ওষুধ, স্থানীয় চিকিৎসা বা বিশেষ এন্ডোস্কোপিক পদ্ধতির প্রয়োজন হতে পারে।

টেনেসমাস হলে কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

টেনেসমাস কয়েকদিনের বেশি থাকলে, বারবার ফিরে এলে বা দৈনন্দিন কাজে সমস্যা তৈরি করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে নিচের কোনো লক্ষণ থাকলে দেরি না করাই ভালো:

রক্তশূন্যতা বা অতিরিক্ত দুর্বলতা
  • মলের সঙ্গে রক্ত
  • অকারণে ওজন কমে যাওয়া
  • দীর্ঘদিন মলত্যাগের অভ্যাস বদলে যাওয়া
  • তীব্র বা বাড়তে থাকা পেটব্যথা
  • জ্বর
  • বারবার শ্লেষ্মাযুক্ত পায়খানা
  • রক্তশূন্যতা বা অতিরিক্ত দুর্বলতা
মনে রাখবেন: টেনেসমাসের জন্য এক ধরনের চিকিৎসা সবার ক্ষেত্রে কাজ করে না। সঠিক কারণ শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করলে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মূল সমস্যাটিরও যথাযথ চিকিৎসা করা সম্ভব।

টেনেমাস নিরাময়ে করণীয় কী?

টেনেসমাস নিরাময়ের জন্য প্রথম কাজ হলো এর মূল কারণ শনাক্ত করা। কারণ এটি নিজে কোনো আলাদা রোগ নয়। কোষ্ঠকাঠিন্য, রেক্টাল ক্যান্সার, প্রোকটাইটিস, IBD, সংক্রমণ, IBS, পেলভিক ফ্লোরের সমস্যা বা রেক্টামের অন্য কোনো রোগ থেকে বারবার মলত্যাগের বেগ ও অসম্পূর্ণ মলত্যাগের অনুভূতি হতে পারে।

  • চিকিৎসকের পরামর্শ নিন: সমস্যা বারবার হলে বা কয়েকদিনের বেশি থাকলে পরীক্ষা করানো দরকার।
  • কারণ অনুযায়ী ওষুধ নিন: প্রদাহ, সংক্রমণ, কোষ্ঠকাঠিন্য বা অন্ত্রের খিঁচুনির ক্ষেত্রে চিকিৎসা আলাদা হয়।
  • মল নরম রাখুন: পর্যাপ্ত তরল পান করুন এবং সহ্য হলে আঁশযুক্ত খাবার খান।
  • অতিরিক্ত চাপ দেবেন না: দীর্ঘ সময় টয়লেটে বসে থাকা বা জোর করে মলত্যাগের চেষ্টা এড়িয়ে চলুন।
  • নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করুন: এটি অন্ত্রের স্বাভাবিক চলাচল বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।
  • প্রয়োজনে পেলভিক ফ্লোর থেরাপি নিন: পেশির সমন্বয়ের সমস্যা থাকলে চিকিৎসক এটি পরামর্শ দিতে পারেন।
  • নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক বা ল্যাক্সেটিভ খাবেন না: ভুল ওষুধে মূল সমস্যা আড়ালে থেকে যেতে পারে।
  • মলে রক্ত, জ্বর, তীব্র পেটব্যথা বা ওজন কমলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান।
নোট: উষ্ণ সিটজ বাথ মলদ্বারের অস্বস্তি বা ব্যথা কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে, তবে এটি টেনেসমাসের মূল চিকিৎসা নয়। একইভাবে স্ট্রেস কমানো IBS-সংশ্লিষ্ট উপসর্গে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু টেনেসমাসের কারণ নির্ণয়ের বিকল্প নয়।

টেনেসমাসের জন্য কোন ডাক্তার দেখাবেন?

টেনেসমাস যদি বারবার হয়, বিশেষ করে মলদ্বারে ব্যথা, রক্তপাত, শ্লেষ্মা, দীর্ঘমেয়াদি কোষ্ঠকাঠিন্য বা মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন থাকলে কোলোরেক্টাল রোগের মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে। কোলন, রেক্টাম ও মলদ্বারের রোগ নিয়ে কাজ করেন কোলোরেক্টাল সার্জন। রোগীর উপসর্গ অনুযায়ী প্রয়োজন হলে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টসহ অন্য বিশেষজ্ঞের মতামতও নেওয়া হয়।

টেনেসমাস ও কোলোরেক্টাল সমস্যার মূল্যায়নে ডাঃ তারিক আখতার খান

ডাঃ তারিক আখতার খান, MBBS, FCPS, MS, FRCS একজন কোলোরেক্টাল ও ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন। তিনি পাইলস, এনাল ফিশার, এনাল ফিস্টুলা, কোলন ও রেক্টামের ক্যান্সারসহ বিভিন্ন কোলোরেক্টাল রোগের রোগী দেখেন। বারবার মলত্যাগের চাপ, মলদ্বার দিয়ে রক্ত বা শ্লেষ্মা যাওয়া কিংবা মলত্যাগের অভ্যাসে দীর্ঘদিনের পরিবর্তন থাকলে শুধু উপসর্গ দেখে চিকিৎসা না নিয়ে কারণটি পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

টেনেসমাস বা অন্য কোনো কোলোরেক্টাল সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে থাকলে পরামর্শের জন্য ডাঃ তারিক আখতার খান এর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারেন।

টেনেসমাস ও কোলোরেক্টাল সমস্যার মূল্যায়ন
  • MBBS, FCPS, MS ও FRCS ডিগ্রিধারী কোলোরেক্টাল সার্জন।
  • মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যাপক।
  • BSMMU Certified Master Colorectal Surgeon।
  • পাইলস, ফিশার, ফিস্টুলা ও অন্যান্য মলদ্বার-সংক্রান্ত রোগের চিকিৎসায় অভিজ্ঞ।
  • ৯,০০০+ অ্যানাল সার্জারি করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
  • কোলোরেক্টাল ক্যান্সার ও জটিল প্রোকটোলজি সমস্যার চিকিৎসায় কাজ করেন।
  • চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও ফলোআপ নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।

টেনেসমাস হলে যা মনে রাখা জরুরি

পায়খানা করার পরও বারবার চাপ থাকা অনেকেই সাধারণ কোষ্ঠকাঠিন্য ভেবে এড়িয়ে যান। কখনো সত্যিই কারণটি ছোট হতে পারে। আবার কখনো রেক্টামের প্রদাহ, সংক্রমণ, IBD বা অন্য কোনো কোলোরেক্টাল সমস্যার প্রথম দিকের লক্ষণ হিসেবেও টেনেসমাস দেখা দিতে পারে।

তাই উপসর্গটি কয়েকদিনের মধ্যে না কমলে, বারবার ফিরে এলে বা সঙ্গে রক্তপাত, ব্যথা, শ্লেষ্মা কিংবা মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন থাকলে কারণটি পরীক্ষা করা দরকার। সঠিক রোগ নির্ণয় হলে টেনেসমাসের চিকিৎসাও কারণ অনুযায়ী ঠিকভাবে পরিকল্পনা করা যায়।

টেনেসমাস সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্নোত্তর

টয়লেট থেকে ওঠার পরও চাপ থেকে যাওয়া বা কিছুক্ষণ পর আবার মলত্যাগের বেগ অনুভব হলে স্বাভাবিকভাবেই অনেক প্রশ্ন আসে। টেনেসমাস কেন হয়, কখন চিন্তার কারণ হতে পারে এবং চিকিৎসা দরকার কি না—এখানে সেসব বিষয় সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

না। টেনেসমাস মূলত একটি উপসর্গ। কোষ্ঠকাঠিন্য, রেক্টামের প্রদাহ, IBD, সংক্রমণ, পেলভিক ফ্লোরের সমস্যা বা কোলোরেক্টাল কিছু রোগের কারণে এটি হতে পারে। তাই মূল কারণ শনাক্ত করা প্রয়োজন।

রেক্টামে মল আটকে থাকা, প্রদাহ বা স্নায়ুর অতিরিক্ত সংবেদনশীলতার কারণে পায়খানা করার পরও আবার চাপ লাগতে পারে। যদি এটি নিয়মিত হয়, কারণটি পরীক্ষা করা উচিত।

হ্যাঁ। শক্ত মল বা দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্যে রেক্টাম পুরোপুরি খালি না হলে টেনেসমাসের মতো অনুভূতি হতে পারে। তবে সব টেনেসমাসের কারণ কোষ্ঠকাঠিন্য নয়।

মলদ্বারের কিছু সমস্যার সঙ্গে চাপ বা অসম্পূর্ণ মলত্যাগের অনুভূতি থাকতে পারে। তবে শুধু টেনেসমাস দেখে পাইলস বলা যায় না। একই ধরনের উপসর্গ রেক্টামের প্রদাহ, কোষ্ঠকাঠিন্য বা অন্য রোগেও হতে পারে।

কিছু কোলোরেক্টাল টিউমারে টেনেসমাস হতে পারে, বিশেষ করে সমস্যা রেক্টামের কাছে থাকলে। তবে টেনেসমাস হলেই ক্যান্সার হয়েছে এমন নয়। প্রতিটি টেনেসমাস রোগীর পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

বেশীরভাগ রোগীর কোলনোস্কপি লাগে। বয়স, উপসর্গ, রক্তপাত, পারিবারিক ইতিহাস এবং চিকিৎসকের পরীক্ষার ফল অনুযায়ী কোলনোস্কপি প্রয়োজন কি না ঠিক করা হয়।

সাময়িক কোষ্ঠকাঠিন্য বা হালকা কোনো সমস্যার কারণে হলে উপসর্গ কমে যেতে পারে। কিন্তু বারবার হলে বা দীর্ঘদিন চললে মূল কারণ শনাক্ত করা প্রয়োজন।

এর একক কোনো চিকিৎসা নেই। কারণ অনুযায়ী চিকিৎসাই মূল বিষয়। কোষ্ঠকাঠিন্য, সংক্রমণ, IBD, প্রোকটাইটিস, পেলভিক ফ্লোর সমস্যা কিংবা কোলোরেক্টাল টিউমারের চিকিৎসা একে অপরের থেকে আলাদা।

মলের সঙ্গে রক্ত গেলে সেটিকে শুধু পাইলস ধরে নেওয়া ঠিক নয়। মলদ্বার, রেক্টাম বা কোলনের বিভিন্ন রোগে রক্তপাত হতে পারে। বিশেষ করে রক্তপাত বারবার হলে চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন।

সতর্কতাঃ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যসমূহ শুধুমাত্র সচেতনতা ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনোভাবেই চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। চিকিৎসা সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

Call Receptionist
Call for Appointment
Make An Appoinment

Appointment Scheduling Time: 9 AM - 10 PM

  1.  Popular Diagnostic Centre Ltd. Logo
  2. Alliance Hospital Limited
Arrow